মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ভোলা । ৩১ অক্টোবর ২০১৭ । ১৬ কার্তিক ১৪২৪
ভোলা জেলা সদরে ২৫০ শয্যার নতুন হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২ হাজার স্কয়ার ফুট এলাকায় নির্মিত ভবনটির কাজ ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। গণপুর্ত বিভাগের বাস্তবায়নে আগামী মার্চের মধ্যে ভবনটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। অত্যাধুনিক ডিজাইনের ৭তলা ভবনটিতে সার্বক্ষণিক দুইটি লিফটসহ আইসিইউ, সিসিইউ, ডায়গনস্টিক সেন্টার, রেডিওলজি ডিপার্টমেন্ট, অপারেশন থিয়েটার, কনফারেন্স রুমসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। আর এতে করে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হচ্ছে।
বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৫০ শয্যার লোকবল দিয়ে ১’শ শয্যার কার্যক্রম চলছে। এতে করে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। চাহিদার তুলনায় বিছানা সংখ্যা স্বল্প হওয়াতে অনেক সময় বারান্দায় রোগীদের আশ্রয় নিতে হয়। একইসাথে ডাক্তার সংকটে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয় কখনো কখনো। তাই নতুন আড়াই’শ বেডের হাসপাতাল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে জেলার স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুল আলম খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভবনটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ৯তলা ফাউন্ডেশনের ভবনটিতে বর্তমানে ৭তলা নির্মিত হলেও পরবর্তিতে আরো ২তলা পর্যন্ত করা যাবে। বর্তমান সরকারের আমলে ২০১৩ সালে ভবনটি’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখেইে ভবনটির কাজ চলছে। বর্তমানে শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
গণপুর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ভবনটির প্রথম ফ্লোরে রেডিওলজী ডিপার্টমেন্ট, ইমারজেন্সি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার থাকছে। দ্বিতীয় ফ্লোরে ডায়গনস্টিক বিভাগ ও ডাক্তারদের জন্য রুম থাকবে ১৪টি। তৃতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার ৪টি, এডমিন ব্লক ও আইসিউ থাকছে ৬ বেডের। চতুর্থ তলায় থাকবে অপারেশন থিয়েটার ১টি, পোস্ট ওটি ১২টি, লেবার রুম ১৬টি, রোগীদের ২৮ বেড ও কনফারেন্স রুম থাকবে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ ফ্লোরে থাকবে রোগীদের জন্য ১৪০টি বিছানা। আর সপ্তম তলায় হবে ২৮টি কেবিন। এছাড়া হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ডাক্তারদের জন্য ৩তলা একটি ডরমেটরি ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ডাক্তাররা এখানে থাকতে শুরু করেছেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: রথীন্দ্রনাথ মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোলা সদর হাসপাতাল বর্তমানে ১’শ শয্যা বিশিষ্ট। মূলত এটি ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে পরিচালিত। ২২টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১১ জন চিকিৎসক পদায়ন আছে। দৈনিক ধারণ ক্ষমতার চাইতে প্রায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করে। সীমিত চিকিৎসক দিয়ে এই বিপুল মানুষের চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নির্ধারিত সময়ে ভনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এটি উদ্বোধন ও আড়াই’শ বেডের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
সিভিল সার্জন আরো জানান, নতুন আড়াই’শ শয্যার হাসপাতালে কনসালটেন্টসহ অন্যান্য চিকিৎসকের পদ অনেক বেশি। এখানে কার্ডোলজী, অর্থোপেটিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা, গাইনী, মেডিসিন ইউনিটসহ সবকিছুই থাকবে। তাই হাসপাতালটি চালু হলে এখানকার চিকিৎসার মান উন্নয়ন ও রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার নতুন দিগন্ত সূচিত হবে বলে মনে করেন সিভিল সার্জন। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম