মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০২ মার্চ ২০১৭ । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৩
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
দেশব্যাপি পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট কাল বুধবার বিকেলে প্রত্যাহার করা হলে জনদুর্ভোগেরও অবসান ঘটে।
সারাদেশে পরিবহন ধর্মঘটের আইনগত দিক চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রীট-পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার সকালে শুনানি শেষে এক আদেশে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেয়।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের অনুরোধে পরিবহন শ্রমিকরা বুধবার বিকেল থেকে সব-ধরনের পরিবহন চালানো শুরু করে। সংবাদ বাসস-এর।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাস-টার্মিনাল গাবতলী, মহাখালি ও সায়েদাবাদ থেকে দূপাল্লার বাস চলাচলও স্বাভাবিক হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবনের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে পরিবহন মালিক সমিতি এবং পরিবহন শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এখন থেকেই যানবাহন চালানোর জন্য আন্তরিকভাবে আহবান জানিয়েছি। আমি আশা করি সারা দেশে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হবে।’
বিআরটিএ ভবনস্থ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে গতকাল সকাল ১১ টায় সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহর মধ্যে বৈঠক হয়।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, পরিবহন মালিক সমিতির সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে জনগণের দুর্ভোগে পড়ার কথা তুলে ধরা হলে তারা (পরিবহন মালিক সমিতি) আমাদের আস্বস্ত করেছেন, সমস্যা সমাধানে তারা একটি পথ খুঁজে বের করবেন।
মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র পরিচালক তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মনিরসহ ৫ জনের নিহত এবং সাভারে এক মহিলা ট্রাক চাপায় নিহতের ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা হয়।
সম্প্রতি আদালতের রায়ে একজন চালকের মৃত্যুদণ্ড এবং আরেক চালকের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকরা দেশব্যাপি পরিবহন ধর্মঘট আহবান করে।
ধর্মঘট চলাকালে পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে অবস্থানের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
রাজধানী ঢাকায় মঙ্গলবার ও বুধবার সকাল থেকে বিআরটিসি বাস, পিকআপ, প্রাইভেট কার, টেম্পো, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া কোন গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে দু’একটি ৮ নম্বর চেখে পড়েছে। সকাল থেকে সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। এই পরিস্থিতিতে অফিসগামী হাজারো মানুষের জন্য বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দূর গন্তব্যের অফিসগামী যারা নিয়মিত বাসে যাতায়াত করেন, বাস না পেয়ে তারা রীতিমতো নাকাল হয়েছেন।
পরিবহন না থাকার কারণে তাদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা হেঁটে গন্তব্যে যেতে পারলেও দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সরেজমিনে দেখা যায়, আন্তঃজেলার সব বাস কাউন্টারগুলো দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান করে। যাত্রীবাহী কোন বাস তারা চলাচল করতে দেয়নি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম