Home / আইন-আদালত / ‘পাত্রী’ চাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তা, হারালেন ৮২ লাখ টাকা সাথে সম্ভ্রম!
19 3 26 9 999

‘পাত্রী’ চাই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তা, হারালেন ৮২ লাখ টাকা সাথে সম্ভ্রম!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ ২০২৬ মাসস

পত্রিকায় পাত্রী চাই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পরিচয়, পরে বিয়ের প্রলোভন— শেষ পর্যন্ত প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৮২ লাখ টাকা হারানোর অভিযোগে মামলা করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক নারী উপসচিব। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামানকে আটক করে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর একটি পত্রিকায় ‘ডিভোর্সি বা বিধবা পাত্রী চাই’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন দেন মনিরুজ্জামান। বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে ওই নারী যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করপোরেট হেড ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন। পরে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিভিন্ন স্থানে দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন অভিযুক্ত। এর পর এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় সিলেট ও ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি বাসায় একাধিকবার তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।

এরই মধ্যে কৌশলে ভুক্তভোগীকে সাভারে একটি আবাসিক প্লটে বাড়ি নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করেন মনিরুজ্জামান। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে উপসচিব বিভিন্ন সময়ে নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তার কাছে পাঠান। এজাহার অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাবে মোট ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া নগদসহ অন্যান্য মাধ্যমে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ টাকা।

তবে বাড়ি নির্মাণকাজে অসংগতি দেখা দিলে এবং বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্ত টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং অর্থের হিসাব দিতেও অস্বীকৃতি জানান। এমনকি চাপ দিলে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ও ১৮ ফেব্রুয়ারি একই পত্রিকায় আবারও ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপন দেন মনিরুজ্জামান, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে একই কৌশলে আরও প্রতারণার চেষ্টা চলছিল।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী প্রতারণার অভিযোগে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় দুটি মামলা করেছেন।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী জিয়াউল হক সুমন গণমাধ্যমকে বলেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী মেহেদী হাসান দাবি করেন, তার মক্কেল নির্দোষ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা তদন্ত সংস্থার দায়িত্ব। ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ বাড়ি নির্মাণের কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং কাজও আংশিক সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি থেকেই বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র : আরটিভি

 

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …