ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ অক্টোবর ২০২৫ মাসস
কুমিল্লার গোমতী নদীর বালুচর এখন যেন সবুজের সমারোহে ভরপুর। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ চাদরে মোড়া বিশাল মাঠ। চরের উর্বর জমিতে এখন ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে লাউ শাক। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় এই শাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন গোমতী চরের শতাধিক কৃষক।
কামারখাড়া গ্রামের কৃষক আবদুস সাত্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে লাউয়ের চেয়ে শাকের চাহিদা অনেক বেশি। পাইকাররা এখন শাক কিনতে আগ্রহী। প্রতি আঁটিতে খরচ বাদে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভ হয়। আগে মুলা ও লাল শাক চাষ করতাম, কিন্তু অতিবৃষ্টি ও পোকামাকড়ে ক্ষতি হতো। এখন সহজ পদ্ধতিতে লাউ শাক চাষ করে ভালো আয় করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই শাক প্রথমে নিমসাইর পাইকারি বাজারে যায়। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। স্থানীয় পাইকাররা প্রতিদিন ভোরে চরে এসে ট্রাকে শাক সংগ্রহ করে নিয়ে যান।’
লাউ শাক ক্ষেতের শ্রমিক শারাফত আলী রংপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি প্রতি বছর শীতের আগে কাজের খোঁজে এই চরে আসেন। শীতের সবজি চাষে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন জমিতে। তিনি বলেন, ‘লাউ শাক চাষের কাজে শ্রম তুলনামূলক কম লাগে, তাই ক্ষেতে আগা কাটা ও আঁটি বাঁধা সহজ। আমরা প্রতি আঁটিতে ৫-৭ টাকা করে মজুরি পাই। ৪-৫টি আগা একত্র করে আটি বাঁধি, তারপর পানিতে ধুয়ে সাজিয়ে রাখি। পরে পাইকাররা এসে ট্রাকে করে নিয়ে যান।’
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি গোমতীর চর দেখে এসেছি। কৃষকরা লাউয়ের পরিবর্তে এখন লাউ শাক চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে অল্প সময়ে বেশি লাভ পাওয়া যায়। মৌসুম ছাড়াও তারা লাউ শাক চাষ করতে পারেন। লাউ যেমন বাজারে সরবরাহ দিচ্ছে, তেমনি লাউ শাকও সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘লাউ শাকের বিশেষ বৈশিষ্ট্য যতবার ডগা কাটা হবে, ততবার নতুন ডগা গজাবে। এক গাছ থেকে ৪-৫ বার পর্যন্ত ডগা কাটা সম্ভব।’
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম