Home / জীবনশৈলী / ওজন ঝরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব তথ্য সঠিক নয়
101

ওজন ঝরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব তথ্য সঠিক নয়

মাস্টারি সংবাদ | প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য | ৩১ মার্চ ২০২৪ | ১৭ চৈত্র ১৪৩০

দ্রুত ওজন কমানোর জন্য নানান ধরনের টোটকা, ব্যায়াম বা ওষুধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায়। যেগুলোর বেশিরভাগেই কার্যকর নয় বলে মন্তব্য করেন রাশিয়ান বংশদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক ডা. মিখাইল ভার্সাভস্কি। যিনি ডা. মাইক হিসেবে পরিচিত।

 সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়টা নতুন কিছু নয়। চটকদার কথা বলে একসময় পণ্য বিক্রি করা হত। আর এই যুগে নতুন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নানান ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।”

একমাত্র চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত ব্যায়াম প্রশিক্ষক বা পুষ্টিবিদরাই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে একজনের বাড়তি ওজন কমানোতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারেন।

এছাড়া যেসব ওয়েবসাইটের শেষে ‘.gov’, ‘.edu’, ‘.org’ সেসবের তথ্য খাঁটি হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রিয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা’র ওয়েবসাইটন ‘ফুডসেফটি ডটগভ’ বা হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল’য়ের পরিচালিত ওয়েবসাইট। এসবে অন্তত বেঠিক তথ্য থাকে না- জানান ডা. ভার্সাভস্কি।

তাই এই চিকিৎসক ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি পদ্ধতি অনসরণ করার পরামর্শ দেন।

নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া

বিষয়টা এমন নয় যে, প্রতিদিন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে। বরং নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে দেহের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করা উচিত।

তিনি বলেন, “দ্রুত ওজন কমে যাওয়া শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। একজন ডাক্তারই পারবেন স্বাভাবিক গতি বজায় রেখে ওজন কমানোর পরামর্শ দিতে। তাই বাড়তি ওজন ঝরাতে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”

একটি পদ্ধতি অনুসরণ না করা

ওজন এবং ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। তাই যে কোনো একটি পদ্ধতিতে ওজন কমে যাবে- এরকম বিষয়ের ফাঁদে না পড়ার পরামর্শ দেন ডা. ভার্সাভস্কি। হতে পারে সেটা খাদ্যাভ্যাস অথবা ওষুধ।

তিনি বলেন, “মনে রাখতে হবে অনেক কিছুর প্রভাব দেহের ওজনে পড়ে। যে কোনো একটি ডায়েট অনুসরণ করলেই যে দ্রুত ওজন কমবে এমন কোনো বিষয়ে নির্ভর করা হবে বোকামি।”

তাই প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা, একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, সপ্তাহে দেড়শ মিনিট শরীরচর্চা চালানো- এসব মানতে হবে।

ডা. মাইক পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, “জীবনযাপনে সামান্য পরিবর্তন করে শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ানো যায়। যেমন- দুতিন তলা উঠতে নামতে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা, কাছাকাছি দূরত্বে কোনো বাহন ব্যবহার না করে হাঁটা- এগুলো ওজন কমানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

মন ও শরীরের যত্ন

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবকে অবহেলা করা যাবে না।

ডা. মাইক বলেন, “মানসিক অবস্থা ঠিক না থাকলে খুব সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ঝোঁক বাড়ে। মানসিক চাপ বা অসুখী জীবন থেকে সাময়িক মুক্তি হয়ত দেয় মুখরোচক খাবার। তবে দিন শেষে সেগুলো ওজন বাড়ায়।”

তাই ওজন কমাতে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে পেশাদার মনোবিজ্ঞানির পরামর্শে থাকারও প্রয়োজন রয়েছে। অথবা মন ভালো রাখার জন্য নানান ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াতে হবে।

খাবারের সাথে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
ডা. মাইক বলেন, “ওজন কমানোর ক্ষেত্রে একটি খাবার বাদ দিতে বললে, প্রথমেই মিষ্টি খাবার বাদ দেওয়ার কথা মাথায় আসে। এটা একটা নিয়ম হতে পারে। তবে কোনো খাবার বাদ না দিয়ে বরং খাবার কীভাবে শরীরে কাজ করে সেটা জানতে পারলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায়।”

এজন্য পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বলে মন্তব্য করেন তিনি। যে কোনো দুয়েকটি খাবার বাদ দেওয়া বা খাবার গ্রহণে কঠোর নিয়ম পালন না করে, কোন ধরনের খাবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বিবেচনা করে নিয়মিত গ্রহণ করলে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা যায়।

জনকণ্ঠ

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 25 5 3

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ মাসস রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান …