Home / জাতীয় / সেবাব্রতী বৃটিশ নাগরিক লুসি হল্ট : হৃদয়ে যাঁর বাংলাদেশ
luchiholtengbdmbd

সেবাব্রতী বৃটিশ নাগরিক লুসি হল্ট : হৃদয়ে যাঁর বাংলাদেশ

মাস্টারি বিডি ডটকম
বরিশাল । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬ । ০১ পৌষ ১৪২৩

বাংলাদেশকে ভালোবেসে মরতে চান ব্রিটিশ নাগরিক মিস লুসি হল্ট। এদেশে তার রক্তের কেউ নেই। তবুও এখানকার মাটি ও মানুষের ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শ্বেতাঙ্গিনী এ ভিনদেশী কাটিয়ে দিলেন প্রায় ৬০ বছর।

মহান মুক্তিযুদ্ধের নিভৃতচারী নীরব সাক্ষি এ মানুষটি যুদ্ধাহত মানুষের সেবা দিয়েছেন অকাতরে। তাইতো এখানকার মায়ায় বরিশালের মাটিতেই মরতে চান লুসি।

বাসসের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের সেন্ট হেলেন শহরে লুসির জন্ম ১৯৩০ সালে। বরিশাল অক্সফোর্ড মিশন হাসপাতালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে সেবায়েত হিসাবে যোগদান করেন। দুবছর পর দেশে ফেরার কথা থাকলেও এখানকার প্রকৃতি, মানুষ ও মাটির ভালোবাসা মুগ্ধ করে তাকে। ৫৬ বছর ধরে চলছে লাল সবুজের দেশের সাথে মিতালি। গভীর ভালোবাসা থেকে রপ্ত করেছেন পুরোপুরি বাঙালিয়ানা।

হৃদয়জুড়ে এখন বাংলাদেশের প্রেম। মনে প্রানে চাচ্ছেন বাংলাদেশ ভালো করুক, উন্নতি লাভ করুক।

আলাপে বেশ সুদ্ধ বাংলায় মনের ভাব প্রকাশ করেন লুসি। তিনি বলেন, বিনে পয়সায় কখনো সেলাই শেখানো, তাত প্রশিক্ষণ, পথ শিশুদের পাঠদান, কখোনো বা হাসপাতালে সেবা দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়। কাজের শুরুটা হয়েছে বরিশাল থেকে। পরবর্তিতে রাজশাহী, ঢাকা, নওগাঁ, যশোর, খুলনা, গোপালগঞ্জ হয়ে আবারো ভালোবাসার শহর বরিশালে ফিরে আসা।

অক্সফোর্ড মিশন হোস্টেলের একটি ছোট কামরায় বাস করেন এই বৃটিশ নাগরিক। এখানে তার কাছে কেউ কেউ আসেন ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদের জন্য। আবার কেউ বাংলা থেকে ইংরেজি করার জন্য। হাসিমুখেই তিনি এসব কাজ করে দেন। খুশি হয়ে যে যা দেন তাই গ্রহণ করেন। কোন নির্দিষ্ট চাহিদা নেই তার।

অক্সফোর্ড মিশনের ম্যানেজার বেনডিক্ট বিমল ব্যাপারি জানান, বৃটিশ নাগরিক হিসেবে মাসে ৭০ পাউন্ড ভাতা পান। যার প্রায় সবটাই অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দেন লুসি। দীর্ঘ বছর ধরে লুসিকে সাদাসিদে জীবন যাপন করতে দেখে আসছেন তিনি। এদেশে তার রক্তের কোন আত্মিয় না থাকলেও আত্মিয়তা করেছেন অনেক বাঙালির সাথে। এখন তারাই তার সব।

আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি লুসির রয়েছে। যুদ্ধকালিন সময়ে যশোরের ফাতেমা হাসপাতালে বেশ কয়েক মাস আয়া হয়ে সেবা দিয়েছেন আহতদের। কোন স্বীকৃতি বা লাভের আশায় নয়, সম্পূর্ণ মানবিক দিক থেকেই তিনি বেসামরিকদের সেবা দিয়েছেন। বৃটিশ শাসকদের শাসন নিয়েও তার মনে ক্ষোভ রয়েছে। তার মতে, বৃটিশরা এখানে (এই উপমহাদেশে) যা করেছেন তা ঠিক করেননি। পূর্বপুরুষদের দুঃশাসন নিয়ে কেউ কিছু বললে বোবা মুখে নিজেকে কষ্ট দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করেন। মিশনের ভিতরে কবরস্থানে তার নিজের কবরের জায়গা ঠিক করে রেখেছেন।

৮০ বছরেরও বেশি বয়সের লুসিকে শান্ত, দরদী ও পরোপকারী হিসাবেই মিশনের সবাই জানেন।

সূত্র : বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 8 2026 547

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু, এখনো হাসপাতালে ৫০১৬ জন

দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.