Home / উদ্যোগ / জলাবন লক্ষ্মীবাওর : পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ
Habiganj+Muktijudda+Complex+mbd-4

জলাবন লক্ষ্মীবাওর : পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ

মাস্টারি বিডি ।
হবিগঞ্জ । ২৩ জুন ২০১৮ । ০৯ আষাঢ় ১৪২৫

চারদিকে শুধু জল আর জল। এরই মাঝে হিজল আর করচের বাগান। সেখানে পশু আর পাখির বিচরণ। এমন একটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাস্থল হল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার লক্ষীবাওর জলাবন। যা সিলেটের রাতারগুলের চেয়েও আয়তনে বড় এবং বৈচিত্র্যে ভরপুর। পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ এই জলাবন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পূর্ণতায় লক্ষ্মীবাও’র জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) যেন এক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বর্ষায় স্বচ্ছ জলের সঙ্গে মিতালি গড়ে বাহারি প্রজাতির বৃক্ষলতার সবুজ গালিচা। হেমন্তে মনে হয় ছোট ছোট পাহাড়ের মেলবন্ধন। শীতে দেশী-বিদেশী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় নির্জন এই জলাবন। দূর থেকে জঙ্গলটিকে দেখে মনে হবে যেন পানির উপর ভাসছে। হিজল, বরুণ, কাকুরা, খাগড়া ইত্যাদি গাছ ও গুল্মে পরিপূর্ণ এই জলাবন সকল ঋতুতে বৈচিত্র্যপিয়াসি পর্যটকদের জন্য। কিন্তু সৌন্দর্যের এই হাতছানিকে সবসময় সাদরে গ্রহণ করা হয়ে ওঠে না এর প্রচার-পরিচিতি কম এবং যোগাযোগে সমস্যা থাকার কারণে।

Habiganj+Muktijudda+Complex+mbd-9

পরিবেশবিদদের মতে, পৃথিবীতে ২২টি জলাবন রয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন হচ্ছে সিলেটের রাতারগুল। রাতারগুলের মতোই বানিয়াচঙ্গের লক্ষ্মীবাওর জলাবন। তবে লক্ষ্মীবাওর জলাবনের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। এ জলাবন নিয়ে গবেষণা করলে এনে দিতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় জলাবনের স্বীকৃতি।

বানিয়াচঙ্গ উত্তরের নিভৃত হাওরের অথৈ জলরাশির মধ্যে অপূর্ব রূপ নিয়ে ভেসে আছে লক্ষ্মীবাওর জলাবন। এর দক্ষিণ দিকে লোহাচূড়া, উত্তরে খড়তি আর পশ্চিমে নলাই নদী। তার পূর্ব পাশে আবার রয়েছে গঙ্গাজলের হাওর। জলাবনের আয়তন সাড়ে ৩ কিলোমিটার। দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় সমান। কয়েকশ’ বছর আগে প্রকৃতিগতভাবেই এর সৃষ্টি বলে স্থানীয় লোকজন জানান। স্থানীয়দের কাছে এটি লক্ষ্মীবাওর এবং খড়তির জঙ্গল নামে পরিচিত।

হবিগঞ্জ শহর থেকে ১২ মাইল পর বানিয়াচঙ্গ আদর্শবাজার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটারের পথ লক্ষ্মীবাওর জলাবন। জলের মধ্যে বনের অনাবিল সৌন্দর্য উপভোগ করতে বর্ষায় নৌকা, হেমন্তে মোটরসাইকেল, ট্রলি কিংবা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। হেমন্তে ভোগান্তি একটু বেশি । বর্ষায় স্বচ্ছ জলেই বনটি বেশি উপভোগ্য।

সরজমিনে দেখা গেছে, এলোমেলো আবার কোথাও সারি সারি হিজল, করচ, বরুণ গাছ। ঢোলকলমি ও নলখাগড়াসহ নানা প্রজাতের জলজ উদ্ভিদে ভরপুর এই বন। হিজল-করচ গাছের সংখ্যা হবে কয়েক হাজার। গাছের ঢালে বসে আছে মাছরাঙা, পানকৌড়ি, বালিহাঁস, ডাহুকসহ দেশীয় জাতের নানা রকম পাখি। শরতের বিকেলে অসংখ্য সাদা বক ওড়াউড়ি করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এ বনে মেছোবাঘ, শিয়াল, লাড্ডুকা, কেউটে, গুইসাপ, গোখড়া, দারাইশসহ বিষধর সাপ রয়েছে।

Habiganj+Muktijudda+Complex+mbd-6

জানা যায়, বনের বার্ষিক আয় সৈদরটুলা সাত মহল্লার ধর্মীয়-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও অতি দরিদ্রদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। পাখির অভয়াশ্রম রক্ষায় সেখানে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাখি শিকার করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

এই বনের পানি এত স্বচ্ছ যে সেই পানিতে বনের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। শীতে সেখানের জল কচুরীপানার চাদরে আবৃত থাকে। সেই সময় যখন কচুরীর ফুল ফুটে তখন সেখানে মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

হাওর, পাহাড় আর সমতলের অপূর্ব সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ জেলা পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান লক্ষ্মীবাওর জলাবন।

জানা যায়, জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বানিয়াচংয়ের লক্ষীবাওরকে যাতে আরও পর্যটক বান্ধব করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 4 2026 1222

শিশু টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

ঢাকা, সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬মাসস হাম ও অন্যান্য রোগের শিশুদের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.