মাস্টারি বিডি ডটকম । শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ২৫ এপ্রিল ২০১৮ । ১২ বৈশাখ ১৪২৪
তরমুজ একটি বলবর্ধক ফল- যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তরমুজে রয়েছে বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা। এটি আপনার মস্তিষ্ক থেকে পা পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি সেলকে কার্যকরি করে তোলে।

তরমুজ গ্রীষ্মকালীন সরস সুস্বাদু ফল। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজ। তরমুজের শতকরা ৯২ ভাগই পানি এবং প্রাকৃতিকভাবেই এতে কোনো চর্বি থাকে না। তরমুজের পটাশিয়াম শরীরে ফ্লুইড ও মিনারেলসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি। এই তরমুজকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার একটি অংশ করতে পারলে আপনার ইমিউন সিস্টেমকে বাড়াতে সাহায্য করবে ও চোখের জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টির যোগান দেবে।

তরমুজের উপকারিতা : ১। তরমুজ হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে। হাড়ের ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সাহায্য করে।
২। তরমূজ ভাসডিলেশন (vasodilation) এর মাধ্যমে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে ও কার্ডিওভাসকুলার-এর সাথে সম্পর্কিত ফাংশনসমূহ উন্নত করে।
৩। গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ আমাদের শরীরের জমে থাকা চর্বি কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।
৪। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে পা পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি সেলকে কার্যকরি করে তোলে তরমুজ।
৫। তরমুজ ফ্ল্যাভোনয়েড (flavonoids), ক্যারটিনয়েড (carotenoids), ট্রিটেপেনইডিস (triterpenoids) এবং ফেনোলিক (phenolic)এর মতো যৌগের সমৃদ্ধ ফল। ফলে শরীরের যে কোনো প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
৬। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস জনিত অসুস্থতা কমে যায়।

৭। নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।
৮। তরমুজের Citrulline একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি কিডনি ও মুত্রথলিকে বর্জ্যমুক্ত করে।
৯। তরমুজের বেটাক্যরোটিন চোখের জন্য উপকারী। বেটাক্যরোটিন রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
১০। তরমুজ হার্টের জন্য ভালো। রক্তবাহী ধমনীকে নমনীয় ও শীতল রাখে এটি। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে এ ফলটি।

১১। তরমুজ এ্যাজমা, ঋতুজনিত সর্দি, টনসিল, গরম বা ঠাণ্ডা জ্বর সারায়।
১২। লাইকোপিনসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ তরমুজ খাওয়ার অভ্যাসে বার্ধক্য দেরিতে আসে। ত্বকে সহজে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে না।
১৩। তরমুজের সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড যৌনশক্তি বাড়ায়।
১৪। ভিটামিন এ এবং সি’র চাহিদা পূরণ করে এ ফলটি। ১০০ গ্রাম তরমুজ আপনার আপনার শরীরের ভিটামিন এ’র মোট চাহিদার ১১ শতাংশ পূরণ করে। আর মাত্র এক টুকরো তরমুজ প্রতিদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করে।
১৫। তরমুজের ভিটামিন এ, ত্বক ও চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং নতুন কোলাজেন ও ইলাস্টিন কোষের সুস্থতা বর্ধনে সাহায্য করে।

অপকারিতা : ১। দৈনিক ৩০ মিলিগ্রামের বেশি লাইকোপিন গ্রহণ খাদ্যে অরুচি, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাবের কারণ হতে পারে। ২। যাদের দেহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় পটাশিয়াম থাকে তাদের দৈনিক এক কাপের অতিরিক্ত তরমুজ গ্রহণ করা উচিত নয়। অতিরিক্ত পটাশিয়াম অনিয়মিত হৃদকম্পন ও পেশির ওপর নিয়ন্ত্রণ হ্রাসের জন্য দায়ী।
ভেজাল তরমুজ থেকে সাবধান : কোনো কোনো তরমুজের ভেতর সাদাটে হয় এবং তা মিষ্টতায় কম হতে পারে। আবার কোন কোন তরমুজের শাঁস হয় লাল টকটকে এবং বেশ মিষ্টি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী যেসব তরমুজের ভেতর সাধারণত সাদা হয় তারা তরমুজের শাঁসকে লাল টকটকে করার জন্য দিয়ে থাকে বিষাক্ত কেমিকেল। এই কেমিকেলের রিয়াকশনে তরমুজের শাঁস হয়ে ওঠে টকটকে লাল। পাইকারি বিক্রেতারা তরমুজের উপর প্রথম দফায় স্প্রে করে বিষাক্ত কীটনাশক ‘রাইপেন’ ও ‘ইথোপেন’। যা তরমুজের গায়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঝিল্লি বা ছিদ্র দিয়ে তরমুজের ভিতরে প্রবেশ করে। এই কেমিকেল দুটি লাল করতে ৩০ ভাগ কাজ করে। এরপর খুচরা বিক্রেতা তরমুজের ভিতর সুকৌশলে সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিষাক্ত গ্যাস ‘ইথিনিল’ ঢুকিয়ে দেয়। ফলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তা তরমুজের শাসকে লাল করে ফেলে। ঐ লাল তরমুজের ভেতর কত বড় প্রাণঘাতি ঘাতক লুকিয়ে আছে তা ভাবলেই আতঙ্কিত হতে হয়। এই ইথিনিল মেশানো তরমুজ খেলে ডায়রিয়া হবে, বমি হবে, জ্বর আসবে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আক্রান্ত হবে ক্যান্সারে। বমি করতে করতে মৃত্যুও হতে পারে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম