Home / জাতীয় / মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী অনন্তের পথে…
ferdousi+priovasini+dies+mbd-3

মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী অনন্তের পথে…

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ০৬ মার্চ ২০১৮ । ২২ ফাল্গুন ১৪২৪

জাগতিক বিশ্বের সব লেনাদেনা চুকিয়ে বুকিয়ে নিরন্তরের পথে যাত্রা করলেন তিনি। বৃক্ষের সংসার উজাড় করে, এই সবুজ বাংলার সব মায়া-মমতা ত্যাগ করে চলে গেলেন অনন্তের ঠিকানায়।

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, অধিকারকর্মী ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১ টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি, ইউরিন ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।

গত বছরের ১১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। সেসময় তিনিসহ ১২৩ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পান। পেশাজীবনে ভাস্কর হিসেবে জনপ্রিয়তা পান তিনি।

গত বছর (২০১৭) নভেম্বরে নিজের বাসায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে গোড়ালিতে মারাত্মক চোট পান এ মুক্তিযোদ্ধা। এরপর তাকে ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১১ ডিসেম্বর এক অস্ত্রোপচারের পর তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এরও পরে দেখা দেয় ইউরিন ইনফেকশন।

পরে ভাস্কর প্রিয়ভাষিণীকে বিএসএমএমইউর সিসিইউ থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। ২০ ডিসেম্বর চিকিৎসা শেষে অনেকটাই সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফিরেন। এর ৮৩ দিনের মাথায় আজ না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এই কিংবদন্তি সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব।

১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় নানা বাড়িতে জন্ম তাঁর। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং মায়ের নাম রওশন হাসিনা। বাবা-মায়ের ১১ সন্তানের মধ্যে প্রিয়ভাষিণী সবার বড়। তিনি খুলনার পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা গার্লস স্কুল থেকে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস করেন।

১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। মাঝে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি ইউএনডিপি, ইউএনআইসিইএফ, এফএও, কানাডিয়ান দূতাবাস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। শেষ বয়েসে এসে নানা শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেন এবং তা অবিরামভাবে অব্যাহত রাখেন।

শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার হিসেবে পরিচিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয় তাকে। এছাড়াও তিনি ‘হিরো বাই দ্য রিডার ডাইজেস্ট ম্যাগাজিন’, ‘চাঁদেরনাথ পদক’, ‘অনন্য শীর্ষ পদক’, ‘রৌপ্য জয়ন্তী পুরস্কার (ওয়াইডব্লিউসিএ)’, ‘মানবাধিকার সংস্থার মানবাধিকার পুরস্কার’সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

প্রকৃতির যা কিছু সুন্দর তার সঙ্গেই বসবাস ছিলো ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর। ঝরা পাতা, মরা ডাল, গাছের গুড়ি দিয়ে অসংখ্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন এই ভাস্কর।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 4 2026 1222

শিশু টিকার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন

ঢাকা, সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬মাসস হাম ও অন্যান্য রোগের শিশুদের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অর্থ আত্মসাৎ, …

Leave a Reply

Your email address will not be published.