মাস্টারি বিডি ডটকম ।
নড়াইল । ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ । ২১ মাঘ ১৪২৪
সবুজ অরণ্যে ঘেরা বিশ্ববরেণ্য এসএম সুলতানের বাড়ি পর্যটকদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হচ্ছে। সবুজে ঘেরা এ বাড়ির মাঝেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন নড়াইলের লাল মিয়া, তথা বিশ্ববাসীর এসএম সুলতান।
নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দক্ষিণে কুড়িগ্রাম-মাছিমদিয়া এলাকায় অবস্থিত এসএম সুলতান স্মৃতিসংগ্রহশালা। এ সংগ্রহশালা ঘিরেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন হয়ে থাকে নড়াইলে। এখানে এসে সবুজের মাঝে হারিয়ে যান পর্যটকরা। সুলতানের চিত্রকর্ম, সংগ্রহশালা, শিশুস্বর্গ ও দোতলা নৌকা দেখে মুগ্ধ হন তারা । মাঝে মধ্যে হারিয়ে যান নড়াইলে চিত্রা নদীর শান্ত-স্বচ্ছ পানিতে, দূর-দূরান্তে নৌকায় ভেসে গিয়ে। যে চিত্রা নদী ঘিরে এসএম সুলতানের অনেক স্বপ্ন ও সাধনা ছিলো। এ নদীতে (চিত্রা) তিনি দোতলা নৌকা ভাসিয়ে শিশুদের নিয়ে ছুটে চলতেন দুর-দূরান্তে। এখন সুলতান নেই। নেই সেসব স্বপ্ন। আছে শুধুই তার রেখে যাওয়া সব স্মৃতি।
চিত্রা নদীর পাড়ে সুলতান সংগ্রহশালার পূর্ব পার্শ্বে সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা আছে এসএস সুলতানের দোতলা সেই নৌকাটি। যে নৌকাটি তিনি ১৯৯২ সালে ৯ লাখ মতান্তরে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছিলেন। ‘ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গটির দৈর্ঘ্য ৬০ ফুট ও প্রস্থ ১৫ ফুট। এখানে এসে ‘ভ্রাম্যমাণ শিশুস্বর্গ’ দেখে পর্যটকরা আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।
প্রাথমিক অবস্থায় নৌকায় ইঞ্জিন বসানোর পরিকল্পনা না থাকলেও পরবর্তীতে ইঞ্জিন বসানোর সিদ্ধান্ত নেন শিল্পী। শিক্ষার্থী তথা ছোট সোনামনিদের নৌকায় করে ভ্রাম্যমাণ আর্ট গ্যালারি হিসেবে প্রাকৃতিক দৃশ্য, নদীর জোয়ার-ভাটা, দূর সবুজ বনানী দেখে ছবি আঁকা ও শোখানোর জন্য তিনি নৌকাটি ভাসিয়ে দিতেন চিত্রা নদীতে। ঘুরে বেড়াতেন ঘন্টার পর ঘন্টা।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের স্মৃতিকে ধরে রাখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য সুলতান সংগ্রহশালা নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানালেন সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো: এমদাদুল হক চৌধুরী।
সুলতান ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান মিকু বলেন, সুলতান সংগ্রহশালার মধ্যে টেবিলে রাখা সুলতানের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া সুলতানের সংগৃহীত বিভিন্ন বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ও অন্যান্য সাময়িকী চারটি শো-কেসে রাখা হয়েছে। সংগ্রহশালার আয়তন ও সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য আশপাশের আরও জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহবুবুর রশীদ।
আকাঙ্ক্ষা অপূরণই থেকে যাচ্ছে। সুলতানের শিষ্য চিত্রশিল্পী বলদেব অধিকারী জানান, প্রকৃতি ও পশু-পাখি প্রিয় সুলতানের হাতে গড়ে তোলা চিড়িয়াখানা সুলতান সংগ্রহশালায় পুন:স্থাপিত হলে সুলতান ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। এসব পশু-পাখি ফিরিয়ে আনা হলে সুলতান সংগ্রহশালা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আগত পর্যটকরা আরও বেশি আকৃষ্ট হবেন বলে তিনি জানান।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম