Home / জাতীয় / কক্সবাজারে লাগাতার লোডশেডিং, বুকিং বাতিল করেছেন ৩০ হাজার পর্যটক
8 6 26 111111

কক্সবাজারে লাগাতার লোডশেডিং, বুকিং বাতিল করেছেন ৩০ হাজার পর্যটক

ঢাকা, সোমবার ০৮ জুন ২০২৬ মাসস

কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন নগরীতে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় শুরু হয়। তবে দিনে ও রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেলগুলোর স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। 

কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কে অচল ট্রান্সফরমার সচল করার কাজ চালাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। শনিবার বিকালেছবি-প্রথম আলো

ঈদের ছুটি শুরুর পর থেকেই লাখো পর্যটকের পদচারণে মুখর থাকে কক্সবাজার। কিন্তু চলতি বছর সমুদ্রসৈকতের আনন্দের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গী হয়েছে দীর্ঘ লোডশেডিং। পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা শহরে বিদ্যুৎ থাকছে না। এ পরিস্থিতিতে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক সফর সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছেড়েছেন বলে জানায় হোটেল মালিকদের সংগঠন।

ঈদের দিন ভোরে শহরের কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পর থেকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত এ ট্রান্সফরমার সচল হয়নি। এ কারণে পর্যটকদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমারটি সচল করতে দিন–রাত মেরামতের কাজ চলছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে সেটি সচল করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন নগরীতে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় শুরু হয়। তবে দিনে ও রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেলগুলোর স্বাভাবিক সেবা ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতি এখনো চলছে।

কক্সবাজার হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, কয়েক দিন ধরে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। ফলে হোটেল ও রিসোর্টগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু বাড়তি ব্যয়ের পরও অতিথিদের সন্তোষজনক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন। কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে কক্সবাজার ঘুরতে এসেছিলেন মো. ইব্রাহিম। সম্প্রতি হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা হোটেলের লিফটে আটকা পড়েছিলেন। প্রায় ২০ মিনিট পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হতাশাজনক। এমন পরিস্থিতে পড়বেন কল্পনাও করেননি তিনি।

ঢাকার ফকিরাপুল থেকে আসা পর্যটক আবদুস সামাদ বলেন, বাইরে ঘুরে এসে হোটেলে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে এসি কিংবা ফ্যান কোনোটিই ঠিকমতো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

প্রচণ্ড গরমেও কক্সবাজার সৈকত পর্যটকের ভিড়। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে ভোগান্তির শিকার হয়ে অনেকে কক্সবাজার ছাড়ছেন
প্রচণ্ড গরমেও কক্সবাজার সৈকত পর্যটকের ভিড়। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে ভোগান্তির শিকার হয়ে অনেকে কক্সবাজার ছাড়ছেনছবি-প্রথম আলো

জেনারেটরের খরচে চাপে হোটেল ব্যবসা

কলাতলী সৈকত এলাকার হোটেল সি ক্রাউনের ব্যবস্থাপক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে পরিচালন ব্যয় মেটানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।

হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ঈদের পরদিন থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ-সংকট চলছে। প্রতিদিন শুধু ডিজেল কিনতেই দিনে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। এতে ব্যবসার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে কক্সবাজারের ভাবমূর্তি। পর্যটকেরা দুর্ভোগ নিয়ে ফিরে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো পর্যটনশিল্পের ওপর পড়বে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও হোটেল-মোটেল জোনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সাবস্টেশন সংকটের কারণে বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। ফলে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী বাবুল মিয়া বলেন, বিকল ট্রান্সফরমারের আওতাধীন ফিডারগুলোকে অন্য দুটি ট্রান্সফরমারের সঙ্গে সংযুক্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পুরোনো ট্রান্সফরমারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে সেগুলোও বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী বলেন, বিকল ট্রান্সফরমারটি সচল করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এটি চালু করা গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সূত্র : প্রথম আলো

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

3 26 44

বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ঢাকা, বুধবার ০৩ জুন ২০২৬ মাসস দেশে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। …