Home / চিত্র-বিচিত্র / খান জাহান আলী মাজারের দীঘির সিঁড়ি থেকে শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে কুমির
254 111444

খান জাহান আলী মাজারের দীঘির সিঁড়ি থেকে শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে কুমির

ঢাকা, মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২৬ মাসস

বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে গোসল করার সময় আট বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে একটি কুমির।

আজ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিঘিটির মহিলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিখোঁজ ফাতেমা (৮) তার মায়ের সঙ্গে মাজারেই থাকতেন।

খাদেম তরিকুল বলেন, ‘সে গোসল করতে পানিতে নেমেছিল। হঠাৎ একটি কুমির তাকে আক্রমণ করে এবং পা ধরে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।’

মাজারের এই দিঘির রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জনশ্রুতি আছে, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) নিজেই পুকুরটি খনন করেছিলেন এবং সেখানে এক জোড়া কুমির ছেড়ে দিয়েছিলেন, যাদের নাম রাখা হয়েছিল ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’। ওই বংশের শেষ প্রকৃত উত্তরসূরি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যায়।

‘শিশুটিকে খুঁজে বের করতে সবাই মিলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,’ বলেন তিনি।

শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমি ঘাটের ওপরের দিকে দাঁড়িয়ে ছিলাম। মেয়েটি মহিলা ঘাটে নেমেছিল। হঠাৎ একটি কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও জানান, শিশুটির চিৎকার শুনে তিনি এবং আশপাশের লোকজন পানির ধারে ছুটে যান। কিন্তু ততক্ষণে কুমিরটি অদৃশ্য হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে খোঁজাখুঁজি করলেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।

উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, ‘কুমির অত্যন্ত হিংস্র প্রাণী হওয়ায় পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া রাতের অন্ধকারের কারণে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এর আগেও মাজারের এই কুমির আতঙ্কের কারণ হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দেখা যায় কুমিরটি একটি কুকুরকে দিঘির পানিতে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ঘটনার পর জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এমন হিংস্র প্রাণী রাখা নিরাপদ কি না, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মাজারের এই দিঘির রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জনশ্রুতি আছে, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) নিজেই পুকুরটি খনন করেছিলেন এবং সেখানে এক জোড়া কুমির ছেড়ে দিয়েছিলেন, যাদের নাম রাখা হয়েছিল ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’। ওই বংশের শেষ প্রকৃত উত্তরসূরি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যায়।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 8 2026 5666

জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খাঁন

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ । মাসস জামায়াতে ইসলামী গত ১৬ বছর আওয়ামী …