Home / সাহিত্য / প্রবন্ধ / প্রিয়জনের প্রতারণা : অরবিন্দ আদিত্য
st+mbd

প্রিয়জনের প্রতারণা : অরবিন্দ আদিত্য

যানবাহনের যন্ত্রাংশের এক বিশাল ভাণ্ডারে কাজ করছিলাম আমরা কয়েকজন বাঙালি ও ভারতীয়। চা বিরতির সময় একত্রিত হই সবাই। আর একত্রিত হতেই জমে ওঠে আলাপ। আলাপের বিষয়বস্তু হলো- ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নর-নারীর আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, সামাজিক ব্যবস্থা-অব্যবস্থা, ধর্মীয় সংস্কার-কুসংস্কার ইত্যাদির সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কথা-বার্তার ধরন, ব্যবহার, ওঠাবসা, আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি নিয়ে নানা কথা। অনেক অজানা তথ্য জানার সাথে এক অজানা আমেজও আমাদের মনে ধাক্কা মারছিল। এরই মধ্যে একজন উঠালো আর এক প্রসঙ্গ। মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি করতে আসা মানুষের ঘরে রেখে আসা প্রিয়জনের ঘরের শূন্যতা পূরণের জন্য সেখানকার মানুষের কর্মকাণ্ডের নমুনা সম্পর্কে। আর প্রসঙ্গ উঠতেই প্রায় প্রত্যেকেই নিজেদের জানা অথবা কারো কাছ থেকে শোনা নাম পরিচয় বিহীন ঘটনা বর্ণনায় ব্যস্ত হয়। যেমন, প্রবাসী দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রবাসে আছেন। অতঃপর উপযুক্ত প্রস্তুতির পর সংসারী হবার বাসনা নিয়ে তিনি দেশে গিয়েছেন। অনেক চেষ্টার পর মনের মত কাউকে পেতে ছুটির মেয়াদ একদম শেষ। জীবনসাথী পরনে লাল শাড়ি, হাতে মেহেদি, চোখে‌ পানি নিয়ে এয়ার পোর্টে এসে বিদায় দিয়ে গিয়েছেন। ভদ্রলোক নতুন জীবনের এই মন আকূল করা স্মৃতি মনের মাঝে সম্বল করে কত স্বপ্ন আর আকাঙ্ক্ষার জাল বুনেছেন। নীরবে কাজ-কর্ম করে উপার্জিত অর্থের ড্রাফট সরাসরি হৃদয়রানীর কাছে পাঠিয়েছেন। আর ড্রাফট হাতে রানী ছুটেছেন ব্যাংকে। নিজের একাউন্টে জমা করেছেন; বসেছেন ম্যানেজার সাহেবের সামনে। পরিচয় হয়েছে; হয়েছে কত কথা। অবশেষে একদিন মন দেয়া-নেয়া। হতভাগা প্রবাসী অকস্মাৎ একদিন জানতে পেরেছেন- জীবনসাথী তার জীবনের সদর দরজা দিয়েই প্রস্থান করেছেন এবং বিবাহিত ম্যানেজারের রিকণ্ডিশনড হৃদয়ের মজবুত প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করে কবাট বন্ধ করেছেন।

কথা শেষ হতে না হতেই শুরু করে অন্যজন। প্রবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে। পরিবার-পরিজনের সুখ সমৃদ্ধির কথা ভেবে নিজেকে কাজে-কামে ব্যস্ত রাখেন। শত কষ্টকে তিনি কষ্ট মনে করেন না। তার এ ত্যাগের বিনিময়ে সংসারে সুখ সমৃদ্ধি জেল্লা জৌলুস সবই এসেছে। আর সাথে এসছে নতুন রসের জোয়ার। সে জোয়ারে দেহ-মন ভাসিয়েছে দেবর আর ভাবী। খেয়েছে হাবুডুবু। চলেছে অভিসার। ঘটনা শুনে পাঞ্জাবের বকশি রাম বলে- ‍‌‘এও ভি আচ্ছা হ্যায়। ঘরকা বাত ঘরমে রহা গেয়া।’

বকশি রামের একথা শুনে রেগে যায় এক বাঙালি যুবক- বলে ওঠে- ‘ঘরকা বাত? আমার ঘরে এমন ঘটনা ঘটলে দুইটারেই কেটে ফেলাতাম।’

বকশি রাম একগাল হেসে, বা হাতের দুই আঙুলে এক অদ্ভুত নক্সা বানিয়ে তার মুখের উপর ধরে বলে- ‘দেখ, তোম ইসকো পাকড়োগে ক্যায়সে?’

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

3 10 26

রূপপুরে পৌঁছাল প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম

শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ । মাসস কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.