মাস্টারি বিডি । শিমুল আহসান
সাহিত্য বিভাগ । ১৯ নভেম্বর ২০১৮ । ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
“আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা/ তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়া কর মেলা।/ আমরা যখন আকাশের তলে ওড়ায়েছি শুধু ঘুড়ি/ তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।”
এরকম প্রাণঞ্চারী হাজারো প্রেরণা ছিলো যে কবির কণ্ঠে- তিনি আমাদের অত্যন্ত প্রিয় কবি সুফিয়া কামাল।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত কবি বেগম সুফিয়া কামাল। ২০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) কবির ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৯ সালের এই দিনে সুফিয়া কামাল মৃত্যুবরণ করেন।
বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মঙ্গলবার তার মুত্যুবার্ষিকী পালন করবে।
কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে এক অকুতোভয় যোদ্ধা। তার জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালে।
সেসময় বাঙালি মুসলমান নারীদের লেখাপড়ার সুযোগ একেবারে সীমিত থাকলেও তিনি নিজ চেষ্টায় লেখাপড়া শেখেন এবং ছোটবেলা থেকেই কবিতাচর্চা করেন।
মহীয়সী এ নারীর জীবনাদর্শ ও সাহিত্যকর্ম একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে নির্মমভাবে হত্যা করে যখন এদেশের ইতিহাস বিকৃতির পালা শুরু হয়, তখনও তাঁর সোচ্চার ভূমিকা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক শক্তিকে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছিল।
সুফিয়া কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হোস্টেলকে ‘রোকেয়া হল’ নামকরণের দাবি জানান। ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সরকার রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ করলে এর প্রতিবাদে গঠিত আন্দোলনে কবি যোগ দেন। বেগম সুফিয়া কামাল শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর সুফিয়া কামাল মৃত্যুবরন করলে তাঁকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় । বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান লাভ করেন।
সুফিয়া কামালের লেখা কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, দিওয়ান, অভিযাত্রিক ইত্যাদি। কেয়ার কাঁটা নামে একটি গল্পগ্রন্থ ছাড়াও তিনি ভ্রমণ কাহিনী, স্মৃতি কথা, শিশুতোষ এবং আত্মজীবনীমূলক রচনাও লিখেছেন।
তরুণ মনে অগ্নিস্ফুলিঙ্গের শব্দপুঞ্জ ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন কালজয়ী কবি বেগম সুফিয়া কামাল। এমনই শক্তিমান ছিলো তাঁর সম্ভাবনাময় উচ্চারণ; “আজিকার শিশু” কবিতার চার পঙক্তি-
“তোমাদের গানে, কল-কলতানে উছসি উঠিবে নদী-/ সরস করিয়া তৃণ ও তরুরে বহিবে সে নিরবধি/ তোমরা আনিবে ফুল ও ফসল পাখি-ডাকা রাঙা ভোর/ জগৎ করিবে মধুময়, প্রাণে প্রাণে বাঁধি প্রীতিডোর।”
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম