মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ২০ পৌষ ১৪২৩
রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের ডিসিসি মার্কেটের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি দীর্ঘ নয় ঘণ্টা পরও। এদিকে ভোরের দিকে ধসে পড়েছে মার্কেটের একাংশ।
সোমবার রাত আড়াইটা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করলেও কতক্ষণে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে- তা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময়ও বলতে পারেননি অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মীরা।
এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, অগ্নিকাণ্ডে কারও মৃত্যুর কোনো তথ্য তারা পাননি।
মেয়র বলেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশের ভবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে চেষ্টাও তারা করছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে কত সময় লাগবে তা বলা সম্ভাব হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, নাশকতা কিনা, এটা মেয়রের পক্ষে বলা সম্ভব না, মেয়র নাশকতা এক্সপার্ট না। পুলিশ ভালো বলতে পারবে। তবে মেয়র হিসেবে আমার মনে হয়, নাশকতা না হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ পারসেন্ট।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ নাশকতার সন্দেহের কথা বললেও মেয়রের ধারণা, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই ওই মার্কেটে আগুন লেগেছে।
তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মুস্তাক আহমেদ রাত পৌনে ৪ টায় ঘটনাস্থলে এসে বলেন, ভয়াবহ আগুন লেগেছে। কীভাবে লেগেছে তা বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার পলাশ চন্দ্র মদক সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয় মার্কেটের পূর্ব দিকে। পরে তা অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত আড়াইটার দিকে কাজ শুরু করে।

একজন ব্যবসায়ী জানান, দুই তলা এই মার্কেটে দোকান আছে আড়াইশর মত। নিচতলায় বড় একটি অংশে রয়েছে আসবাবপত্রের দোকান। বেশ কিছু খাবারের দোকানও রয়েছে। দোতলায় রয়েছে আমদানি করা খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী, পোশাক ও গয়নার দোকান। নিচতলায় পূর্ব অংশে রয়েছে কাঁচাবাজার। ওই দিকেই ডিসিসি মার্কেটের লাগোয়া চার তলা গুলশান শপিং সেন্টার। তবে সেখানে আগুন লাগেনি বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন।
এদিকে জানা যায়, ভোর সোয়া ৪ টার দিকে মার্কেটের পেছনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এর কিছু সময় পরেই ধসে পড়ে সামনের একটি অংশও।
গভীর রাতে কর্মচারীদের কাছ থেকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন মার্কেটে। তাদের অনেককেই মরিয়া হয়ে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। যাদের দোকান তখনও অক্ষত, তারা মালামাল নামিয়ে মার্কেটের সামনের খোলা অংশে জড়ো করতে থাকেন।
চোখের সামনে দোকান আর মার্কেট পুড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যবসায়ীদের কয়েকজন। এ ঘটনা নাশকতা বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ।
সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম