মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বনানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শনিবার দুপুর ১ টা ৫২ মিনিটে তিনি মেয়রের বাসায় যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় আনিসুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম শনিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১ টা ৪৫ মিনিটে আনিসুল হকের বনানীর বাসায় যান এবং তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।’
প্রেস সচিব আরো বলেন, শেখ হাসিনা সেখানে গেলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এ সময় মরহুমের স্ত্রী, পুত্র ও কন্যারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পরে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। প্রধানমন্ত্রী এরপর মরহুম আনিসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে কথাবার্তা বলেন। তিনি প্রয়াত মেয়রের বাসভবনে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন।
এ সময় স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মরহুমের ছোট ভাই সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হকসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার বাদ জুমা (স্থানীয় সময় বেলা ১২ টা ৫৭ মিনিটে) যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক মসজিদে আনিসুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শিল্পপতি সালমান এফ রহমান, ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, প্রয়াত মেয়রের ছেলে নাভিদুল হক ও ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পারভেজ আহমেদসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন রিজেন্ট পার্ক মসজিদের ইমাম।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০ টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আনিসুল হক। মেয়ের সন্তান জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডন যান আনিসুল হক। গত ৪ আগস্ট তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিস্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা।একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে থেরাপি দেওয়ার জন্য তাকে অন্য একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। এরইমধ্যে গত ২৬ নভেম্বর তার অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
আনিসুল হকের জন্ম ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর ফেনীর সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মাতুলালয়ে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। আশি-নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিটিভিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুখোমুখি অনুষ্ঠানও করেন। সেই অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ছিলেন আনিসুল হক। আশির দশকেই তিনি সাবেক সচিব নুরুল হকের দেশ গার্মেন্টে চাকরিজীবন শুরু করেন। পরে যোগ দেন মোহাম্মদী গ্রুপে। এক পর্যায়ে গার্মেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হন। ২০০৫ সালে তিনি বিজিএমইএর সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া মেয়র হওয়ার আগে ২০০৮ সালে তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতিও নির্বাচিত হন। ইতিমধ্যে তিনি মোহাম্মদী গ্রুপের দায়িত্ব নেন। মেয়র হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যানের পদে আসীন ছিলেন। তার স্ত্রী রুবানা হক বর্তমানে মোহাম্মদী গ্রুপের দায়িত্বে আছেন।
তাদের তিন সন্তান রয়েছে। তাদের ছেলে নাভিদুল হক যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের বেন্টলি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবস্থাপনায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে মোহাম্মদী গ্রুপের পরিচালক ও দেশ এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আনিসুল হক আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদের মনোনয়ন পান। নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকে পরাজিত করেন। তিনি মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগেরও সদস্য ছিলেন।
সৌজন্যে : বাসস ও সমকাল
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম