Home / জীবনশৈলী / হ্যালোইনঃ ভূত-প্রেত-এর উৎসব
1376625_583479895090426_7518270659985154327_n

হ্যালোইনঃ ভূত-প্রেত-এর উৎসব

মাস্টারি বিডি ডটকম । শেখ নজরুল
ঢাকা । ৩১ অক্টোবর ২০১৬ । ১৬ কার্তিক ১৪২৩

৩১  অক্টোবর কেল্টিক সম্প্রদায়ের বছর শেষ হয়। সেল্টিক জাতিগোষ্ঠি খ্রিষ্টপূর্ব ৭ হাজার বছর আগের লৌহযুগের মূর্তিপূজারী। ৩১ শে অক্টোবরকে ” ডে অফ সামহীন” নামে ডাকা হয় । সামহীন -মৃত্যূর দেবতা। সেল্টিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনে মৃত্যূর দেবতা সকল মৃত আত্মাকে মুক্ত করে দেয়, যাতে তারা দুনিয়ায় ফিরে জীবিত থাকার সময় তাদের ওপর অন্যায়কারীর প্রতিশোধ নিতে পারে। এইসব মৃত শয়তানদের খুশি করার জন্য সামহীন দেবতার পূজা-অর্চনা হয়। আর এটাই হচ্ছে হ্যালোইন।
কেল্টিক বিশ্বাস অনুসারে জ্যাক নামের একজন একদা এক শয়তানকে তার সাথে মদ পান করার জন্য ডেকে নেয়। শয়তান তার ডাকে সাড়া দিয়ে জ্যাকের সঙ্গে মদ পান করে, মদ পান শেষ করে জ্যাক ওই শয়তানকে টাকা পরিশোধ করতে বলে।  টাকা পরিশোধের জন্য শয়তান নিজে কয়েন হয়ে যায়। কয়েন হবার পর জ্যাক তাকে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে।শয়তান বিপদে পড়ে। তাকে ছেড়ে দেবার জন্য অনুরোধ করতে থাকে। জ্যাক রাজি হয় তবে শর্তে দিয়ে-শয়তান কখনো তাকে বিরক্ত করতে পারবে না এবং মৃত্যুর পর তাকে শাস্তির দাবী করবে না।
অবশেষে জ্যাক মারা গেলো কিন্তু স্রষ্টা তাকে স্বর্গে নিতে রাজী হলেন না। কারন ওয়াদা অনুসারে শয়তান তাকে নরকে নিতে পারছে না। তখন শয়তান কয়েক টুকরা জ্বলন্ত কয়লাসহ জ্যাককে অন্ধকার ঘরে ছেড়ে দেয়। জ্যাক সেই অন্ধকার ঘরে একটা মিষ্টি কুমড়া পায়। ছিদ্র করে ভেতর থেকে সব বের করে সেখানে জলন্ত কয়লা রাখার পর চারপাশ অনেক আলোকিত হয়ে যায়। জ্যাক এর আত্মা সারা দুনিয়ায় সেই আলো নিয়ে ঘুরে ঘুরছে।
অনেক পণ্ডিতদের মতে, “হ্যালোইন” বা “অল্ হ্যালোজ্ ইভ্” হলো খ্রিস্টধর্মের একটি বার্ষিক উৎসব যা কেলটিক ফসল কাটার উৎসব দ্বারা প্রভাবিত। অন্যান্য পণ্ডিতদের মতে, এই উৎসবটির স্বতন্ত্র উৎপত্তি সামহেন থেকে এবং এর মূলে সরাসরি খ্রিস্টধর্মের প্রভাব বিদ্যমান।

হ্যালোইন পালিত হয়ে আসছে শত শত বছর ধরে। পালনের প্রথম দিকে ভূত-প্রেতরা হ্যালোইনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল না। উৎসবটি পালিত হত নতুন ফসল ঘরে তোলার উৎসব হিসেবে। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাতেই হ্যালোইন পালন করা হত। সেই উৎসবেই এখন ভূত-প্রেত-এর উৎসব!

হ্যালোইনের উৎস খুঁজতে যেতে হয় সেই প্রাচীন রোমান সভ্যতায়। রোমে নতুন ফসল ঘরে তোলার উৎসবের নাম ছিল ‘সাহেইন’। কালে কালে এই সাহেইন ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। তখন যেটা হওয়ার কথা, উৎসবটিতে নানা পরিবর্তন আসতে থাকে।

যুক্তরাজ্যের প্রাচীন অধিবাসী ব্রিটন-আইরিশ-ওয়েলশরা বিশ্বাস করত, বছরের শেষ দিন জগতের সব নিয়মকানুন স্থগিত হয়ে যায়, তখন মৃত্যুর দেবতা সব মৃত আত্মাদের অনুমতি দেয় জীবিতদের জগতে আসার। তখন বছরের শেষ দিন ছিল ৩১ অক্টোবর। আর ওদের মৃত্যুর দেবতার নাম ছিল ‘সাহেইন’।

আবার স্কটিশ ও আইরিশদের অন্য বিশ্বাস ছিল, মৃতরা ছোট ছোট পাহাড়ে পরীদের সঙ্গে বসবাস করে। বছর শেষের রাতে, ৩১ অক্টোবর রাতে তারা নতুন দেহ নেওয়ার জন্য জীবিতদের কাছে আসে । ফলে এই মৃত আত্মাদের হাত থেকে বাঁচতেই তারা এমন উৎসব পালন করত।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

27 9 26 11 222

এলজিইডিতে আইইউটি’র শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রিলিকের দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ । মাসস স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আয়োজিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.