Home / এই দিন / পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী
jasimuddinpoetmbd

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ০১ জানুয়ারি ২০১৮ । ১৮ পৌষ ১৪২৪

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী আজ পয়লা জানুয়ারি। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের কীর্তিমান এই কবি পল্লীর জনগণের সুখ-দুঃখ এবং তাদের জীবনধারার ওপর চিরায়ত রচনাসম্ভারের মাধ্যমে পল্লীকবি হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

কবি জসীমউদ্দীন ১৯০৩ সালে ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই কবি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। তিনি ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও ফরিদপুর জেলা স্কুলে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং এরপর এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৩১ সালে দীনেশচন্দ্র সেনের সঙ্গে লোকসাহিত্য সংগ্রহ কাজে চাকরি করেন। ১৯৩৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা সহকারী হিসেবে যোগ দেন। ১৯৩৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৪ সালে ঢাবির চাকরি ছেড়ে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রী প্রদান করে।

বাংলা সাহিত্যে কবি জসীমউদ্দীনই প্রথম পল্লীর জনগণের জীবন, সংস্কৃতি, তাদের সুখ-দুঃখ নিয়ে ব্যাপকভাবে কবিতা, নাটক, গান রচনা করে খ্যাতিলাভ করেন। কবি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখনই তার বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতা বাংলা পাঠ্য বইয়ে স্থান পায়।

লিখেছেন অসংখ্য গান। তার লেখা জনপ্রিয় গানগুলো হচ্ছে, আমার সোনার ময়না পাখি, আমার গলার হার খুলে নে, আমার হাড় কালা করলাম রে, আমায় ভাসাইলি রে, আমায় এত রাতে, কেমন তোমার মাতা পিতা, নদীর কুল নাই কিনার নাই রে, ও বন্ধু রঙিলা, রঙিলা নায়ের মাঝি, ও আমার দরদী আগে জানলে, প্রাণ সখিরে ওই শোন কদম্ব তলে বংশি বাজায় কে। এছাড়া কবির আরো অসংখ্য গান জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার বেশ কয়েকটি নাটকও বাংলা নাটকের ভীড়ে অমর রচনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। লিখেছেন উপন্যাস ও ভ্রমণ কাহিনী।
কবির কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- রাখালী (১৯২৭), নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯), বালুচর (১৯৩০), ধানক্ষেত (১৯৩৩), সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪), হাসু (১৯৩৮), রঙিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫), রূপবতী, মাটির কান্না, এক পয়সার বাঁশী, সকিনা, সুচয়নী, ভয়াবহ সেই দিনগুলোতে, হলুদ বরণী, জলে লেখন, কাফনের মিছিল ও কবর। নাটকের বই হচ্ছে পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধূ, গ্রামের মেয়ে, ওগো পুস্পধনু ও আসমান সিংহ। আত্মকথা- যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, জীবনকথা ও স্মৃতিপট। এ ছাড়া চারটি উপন্যাস, চারটি ভ্রমণ কাহিনী, দুটি গানের বই রয়েছে এ কালজয়ী কবির।

কবি একুশে পদক (১৯৭৬), স্বাধীনতা পদক (১৯৭৮), বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ১৯৬৯ সালে ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করেন।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 25 5 3

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২৬ মাসস রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.