মাস্টারি সংবাদ | শান্তা ইসলাম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২৪ মাঘ ১৪৩০
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার অওতায় বিয়ে করলে দিতে হবে কর। প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা, দ্বিতীয় বিয়েতে পাঁচ হাজার, তৃতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে ২০ হাজার ও চতুর্থ বিয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আওতাধীন এলাকায় বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
তবে প্রথম স্ত্রী যদি মানসিক ভারসাম্যহীন অথবা বন্ধ্যা হয় এ ক্ষেত্রে শুধু ২০০ টাকা বিবাহ কর করপোরেশনের রাজস্বে জমা দিয়ে পরবর্তী বিয়ে করা যাবে।
এর ফলে করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়াবলি যেমন শৃঙ্খলিত ও তথ্যসমৃদ্ধ হবে তেমনি ভবিষ্যতে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারে বিশেষত বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অন্যান্য সংস্থাকে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সরবরাহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়ক হবে বলে জানান ডিএসসিসি।
একই সাথে বাড়বে সংস্থার রাজস্ব আদায়। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৮২ নম্বর ধারার ৪র্থ তফসিলের ৮ নম্বর ক্রমিকে অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং আদর্শ কর তফসিল ২০১৬ এর ১০(৪)-এর ১৫২ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত হারে এই কর আদায় করা হবে।
এ প্রসঙ্গে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিবাহবিচ্ছেদ সকলের কাছে অপ্রত্যাশিত একটি বিষয়।
কিন্তু তার পরও বাস্তবতার নিরিখে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে থাকে। বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত তথ্যাদি করপোরেশনে আসলেও বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমাদের কাছে থাকে না।
কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী এটা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়াও বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
পাশাপাশি অনেক সময় আদালত ও বিভিন্ন সংস্থা হতে এসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ফলে আমাদের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামষ্টিকভাবে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সময় কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশান নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়। তা ছাড়া বিদেশগামী যাত্রীদের ও বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ রকম বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যাদির গুরুত্ব অপরিসীম।
এ ছাড়াও অনেক সময় বিদেশি দূতাবাসে বিবাহ সংক্রান্ত তথ্যাদির প্রয়োজন হয়। তাই বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম লিপিবদ্ধ থাকলে তারাও সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে তথ্য পেতে পারে। সুতরাং শৃঙ্খলা আনয়নে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
উল্লেখ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে মন্ত্রণালয় গত বছরের ১৩ মার্চ তারিখে আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ এর ১০(৪)-এর ১৫২ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত কর আদায়ে একটি পত্র পাঠায়।
সে লক্ষ্যে গত বছরের ৬ জুন তারিখে করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকা বিভাগীয় রেজিস্ট্রার, ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার, করপোরেশনের অধিক্ষেত্র এলাকার কাজীরা, করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড গত জানুয়ারি মাসে ২৮টি বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রমের জন্য দুই হাজার ৮০০ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
বর্তমানে এ কার্যক্রম ম্যানুয়ালি পরিচালনা করা হলেও শিগগিরই তা অনলাইনে নিয়ে আসতে ইতোমধ্যে করপোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়ন হলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও বিবাহ নিবন্ধন কর পরিশোধ করা যাবে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম