Home / জাতীয় / নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, স্বপ্ন ভাঙছে গৃহহীনদের
15 6 26 2

নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর, স্বপ্ন ভাঙছে গৃহহীনদের

ঢাকা, সোমবার ১৫ জুন ২০২৬ মাসস

নদী খননের মাটিতে চাপা পড়েছে খুলনার ডুমুরিয়ার তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অসংখ্য ঘর। এতে স্বপ্ন ভাঙছে গৃহহীনদের। নদী খনন করতে গিয়ে যত্রতত্র মাটি ফেলার কারণে কোথাও ঘরগুলোর ওপর আস্ত মাটির পাহাড় তুলে দেওয়া হয়েছে, আবার অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজিংয়ের কারণে নদীগর্ভে ধসে পড়ার হুমকিতে পড়েছে প্রকল্পের বহু ঘর। নষ্ট হয়েছে বেশকিছু টিউবওয়েল, ভেঙেছে টয়লেট। উপজেলার  চুকনগর, কাঁঠালতলা এবং খর্নিয়া এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প লাগোয়া ভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে এখানকার বসবাসকারীরা। 

ভুক্তভোগীরা জানান, নদী থেকে তোলা পলিমাটির প্রচণ্ড চাপে তার ঘরের পেছনের দেয়াল ও জানালা ভেঙে ভেতরে কাদা ঢুকে গেছে। নদী খননের মাটি যেভাবে ঘরের গা ঘেঁষে স্তূপ করে রাখা হয়েছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে পুরো ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে একদিকে যেমন ঘরে থাকার উপায় নেই, অন্যদিকে মাটির ভারে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। তাদের খাবার রান্না করার জায়গা নেই। শিশুদের নিয়ে ঘুমানোর নিরাপদ আশ্রয় নেই।

তারা আরও জানান, এই নদী খনন কর্মসূচিতে কাঠালতলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের মানুষদের খাবার পানির জন্য তিনটি টিউবওয়েল এর মধ্যে দুটিই ইতোমধ্যে নষ্ট হয়েছে। বেশিরভাগ ঘরের মানুষদের টয়লেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে খননের সময়ই। খর্নিয়া ও কাঠালতলা এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবারের মানুষ তাদের ঘরের খাট, হাঁড়ি-পাতিলসহ যৎসামান্য আসবাবপত্র আছে তাও বাইরে বের করে খোলা আকাশের নিচে এনে রেখে প্রহর গুনছেন কখন তার শেষ সম্বলটুকু ভেঙে পড়বে।

খর্নিয়া এলাকার দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, নদী কাটার সময় মেশিন দিয়ে ঘরের একদম গোড়া পর্যন্ত গর্ত করা হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরগুলো নদীতে ধসে পড়বে। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বাথরুম সব ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনটি পানি খাওয়ার কল ছিল, নষ্ট হয়ে গিয়েছে ২টি। এখন ২৬ পরিবারের একমাত্র ভরসা একটি টিউবওয়েল।

গৃহবধূ রওশন আরা বেগম বলেন, জোয়ার আসলে ঘর বিলীন হয়ে যাবে সেই আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই এখানে ভালোভাবে যেন বসবাস করতে পারি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২১ সালের ২৩ জানুয়ারি ও ২০ জুন এবং ২২ সালে তিনটি ধাপে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর, খর্নিয়া এবং কাঠালতলা এলাকায় শতাধিক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করে তৎকালীন সরকার। চুকনগর, খর্নিয়া এবং কাঁঠালতলা এলাকায় খাস জমি চিহ্নিত করে দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমি-পাকা ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। জমিসহ ঘরের দলিল হস্তান্তরের দিন এই মানুষগুলোর চোখে ছিল আনন্দের জল। যারা একসময় রেললাইনের ধারে বা অন্যের বারান্দায় রাত কাটাতেন, তারা পেয়েছিলেন একটি স্থায়ী ঠিকানা। যশোর ও খুলনার ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আপার ভদ্রাসহ ৫টি নদীর (হরিহর, হরি-তেলিগাতী, আপারভদ্রা, টেকা ও শ্রী) ৮১.৫ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ দেয় সরকার। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে নদী খননের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ায় এই নদী খনন শুরু হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে নদী খননের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর।

সূত্র : ঢাকা পোস্ট

 

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 16 6 11

বাধার মুখে গাইবান্ধায় ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত ‘বৃহত্তম রামমূর্তি’ স্থাপন ও নির্মাণের কাজ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে শ্রী শ্রী …