মাস্টারি বিডি ডটকম ।
পঞ্চগড় । ১৮ নভেম্বর ২০১৭ । ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
মিনি কমবাইন হারভেস্টিং মেশিন নামের নতুন মেশিন দিয়ে এক সাথে ধান কাটা ও ধান প্যাকেটিং হওয়ায় পঞ্চগড় অঞ্চলের কৃষকের কাছে মেশিনটি হয়েছে বেশ জনপ্রিয় । কৃষকরা এ মেশিন দিয়ে চলতি আমন ধান কাটায় বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কৃষিতে কৃষকের ব্যস্ততম সময় পার করতে ও গতানুগতিক চাষাবাদে বিজ্ঞানের নতুন অগ্রগতি কৃষিকে করেছে সমৃদ্ধ ও লাভজনক। নতুন উদ্ভাবন এ মেশিন সমস্যা লাঘব করেছে কৃষি শ্রমিকের। যেখানে এক বিঘা (৩৩) শতাংশ জমির ধান কাটাই ও মাড়াই করতে দরকার হয় ৮ জন শ্রমিকের, খরচ হয় ২৪’শ টাকা, সেখানে এ মেশিন দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটাই-মাড়াই করতে খরচ হচ্ছে ১৬’শ টাকা। সাশ্রয় হচ্ছে সময়ের। এ মেশিন দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে সময় লাগে আধা ঘন্টা । দেবীগঞ্জের শাহজাহান নামে এক যুবক ৭ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছে ধান কাটার এ মেশিনটি। এটি চীনের তৈরি।
শাহজাহান জানান, প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০ বিঘা জমির ধান একইসাথে কাটা ও ধান বস্তাজাত করা যায়। এতে আসে ২৫ হাজার ৬’শ টাকা। এ ১৬ বিঘা জমির ধান কাটতে ও মাড়াই করতে দরকার হয় ১২৮ জন শ্রমিকের, ব্যয় হয় ৩৮ হাজার ৪’শ টাকা। সময় ও অর্থের বিবেচনায় নতুন উদ্ভাবিত মিনি কমবাইন হারভেস্টিং মেশিনটি কৃষিতে যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। গম কাটা ও প্যাকেটিং করতে এ মেশিনটি একইভাবে কাজ করবে বলে মেশিন মালিক শাহজাহান জানান।
সভ্যতার ক্রমবর্ধমান বিকাশে বিজ্ঞান এগিয়ে যাবে নতুন হাজারো বিষয় নিয়ে। বিজ্ঞানের এ এগিয়ে যাওয়া অনি। তবে এ প্রক্রিয়ায় সমস্যাও রয়েছে, যান্ত্রিকতা শ্রমিককে বেকার করেছে। আগে কৃষক ধান কেটে মাঠে দিত শুকাতে, রাতে ক্ষেতের ধান পাহারা দিত ছোট ছোট তাবু বানিয়ে। শীত মৌসুমে আমনের কাটা-মাড়াই হওয়ায় রাতে গরম জিলাপি ও মুড়ি নিয়ে ধান পাহারাদারদের নিকট যেত এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পাহারাদারেরা ক্ষেতের ধানের আঁটি দিয়ে নিত মুড়ি ও গরম জিলাপী। কনকনে শীতের নির্ঘুম রাতে গরম জিলাপী ও মুড়ি খাওয়ার দৃশ্য গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছিল। আবার ধানের আঁটি বাঁধা শেষে কাঁধে করে জমির আইল দিয়ে একসাথে দলবেঁধে আসার দৃশ্যটাও ছিল মনোরম। ফলে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করলেও করেনি নান্দনিক।
এদিকে দেবীগঞ্জের কৃষকরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় আমন ধান কাটা শুরু করেছে। আমনের ভাল ফলন ও দাম দেখে কৃষক খুশি। কৃষকের মুখ এখন প্রফুল্ল। কৃষকদের ঘরে ঘরে চলছে নবান্নের প্রস্তুতি। এটি বাঙালির উৎসব। নতুন ধানের নবান্ন চলবে অগ্রায়ণ মাস জুড়ে। নতুন ধান হাট-বজারে চলে এসেছে। প্রতি মণ নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা থেকে ৯’শ টাকা পর্যন্ত। ধান বিক্রি করে কৃষক তার পরিবারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হয়েছে সক্ষম। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম