Home / আন্তর্জাতিক / দুর্গাপূজায় বাংলাদেশের ইলিশ চান ভারতের ব্যবসায়ীরা
10 9 26 11111111

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশের ইলিশ চান ভারতের ব্যবসায়ীরা

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ । মাসস
দুর্গাপূজা সামনে রেখে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নির্ধারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রপ্তানিকারকদের আবেদন পাওয়ার পর দেশে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত জানতে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই মতামতের ভিত্তিতেই ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বছর বাংলাদেশ সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ১৫০ টন।

বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে মতামত পেলে শিগগির অনুমতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। আশা করছি, রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পক্ষে ইতিবাচক মতামতই আসবে।’

বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা এবার আগের বছরগুলোর মতো স্বল্প সময়ের পরিবর্তে দীর্ঘ মেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, অন্তত দুই মাস, সম্ভব হলে সারা বছর রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁদের যুক্তি, মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খোলা, ইলিশ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইলিশ রপ্তানিতে আগ্রহী কারা

এ বছর যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি চেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনার বিশ্বাস এন্টারপ্রাইজ; চট্টগ্রামের জেএস এন্টারপ্রাইজ ও আনরাজ ফিশ প্রোডাক্টস; যশোরের লাকি এন্টারপ্রাইজ, এমইউসি ফুডস, মোহতাব অ্যান্ড সন্স ও জনতা ফিশ; ঢাকার ভিজিল্যান্ট এক্সপ্রেস, স্বর্ণালী এন্টারপ্রাইজ, ম্যাজেস্টিক এন্টারপ্রাইজ ও বিডিএস করপোরেশন; বরিশালের মহিমা এন্টারপ্রাইজ, এআর এন্টারপ্রাইজ ও তানিশা এন্টারপ্রাইজ; ভোলার রাফিদ এন্টারপ্রাইজ এবং সাতক্ষীরার এম এ এন্টারপ্রাইজ ও সুমন ট্রেডার্স।

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আলাদা চিঠি দিয়ে এ অনুরোধ জানায়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫ হাজার টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করত। মাঝে রপ্তানি থাকলেও ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অনুমতিতে আবার ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

অনুমতির চেয়ে কম রপ্তানি

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি বরাবরই কম হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও ২০২০ সালে অনুমোদন দেওয়া হয় ১ হাজার ৮৫০ টন। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের বিপরীতে যায় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের অনুমতি দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। আর ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টন রপ্তানির অনুমোদনের বিপরীতে ভারতে যায় মাত্র ৫৭৭ টন ইলিশ।

সূত্র : প্রথম আলো

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

3 2026

নবীর শহর মদিনায় খেজুরের বিশাল সাম্রাজ্য

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ । মাসস খেজুর চাষে সমৃদ্ধ সৌদি আরবের মদিনা। পবিত্র …