বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ । মাসস
জনবল সংকটের মধ্যেও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াতে কাজ করে চলেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বান্দরবান কার্যালয়।
এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণকাজে নিয়োজিত দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও রাখছে এলজিইডির কার্যালয়টি। এর ফলে জেলা ল্যাবরেটরিতে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বান্দরবান এলজিইডির আয় বেড়েছে প্রায় ১৪০ শতাংশের বেশি। একই সঙ্গে কমেছে পরিচালন ব্যয়।
জানা গেছে, কার্যালয়টিতে অনুমোদিত ১৭০টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৭৩ জন। শূন্য রয়েছে ৯৭টি পদ। ফলে অনুমোদিত পদের চেয়ে ৫৫ শতাংশ কম জনবল নিয়ে কার্যালয়টির কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।
বান্দরবান এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নকাজ করছে। অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকল্পেও সহায়তা দিচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা ও সরঞ্জাম ভাড়াসহ অন্যান্য খাত থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এলজিইডির রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৮ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৭ টাকায়।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা, সরঞ্জাম ভাড়া ও জরিমানা খাত মিলিয়ে মোট আয় হয়েছে ৯ কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩৮ টাকা। এটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২৮৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে সর্বাধিক আয় অর্জিত হয়েছে।
এদিকে পরিচালন ব্যয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট পরিচালন ব্যয় ছিল ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ওই বছর ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি ছিল ২০২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জনবল কমায় পরিচালন ব্যয় কমে হয় ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৮ হাজার ২০০ টাকা। এতে ব্যয়ের চেয়ে আয় ২৮১ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি ছিল। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় হয় ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা। এ অর্থবছরে ব্যয়ের চেয়ে আয় ৬১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি হয়েছে।
নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষার বিষয়ে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী (ল্যাব) হৃদয় দত্ত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান ও লামা পৌরসভা এবং পিআইও অফিস তাদের ল্যাবে পরীক্ষা করায়। মাঝে মাঝে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিএডিসিও এখানে পরীক্ষা করায়।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের (পাচউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াসির আরাফাত জানান, রড, বালি ও সিমেন্টের পরীক্ষা এলজিইডির ল্যাবে করা হয়। তবে ভারী কাজের মান পরীক্ষা বুয়েটে করানো হয়। প্রকৌশলী সংকটের কারণে তারা নিজস্ব ল্যাব স্থাপন করতে পারছেন না।
বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানান, কম জনবল সত্ত্বেও ল্যাবরেটরির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রাজস্ব বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। তবে সহকারী প্রকৌশলী ও ল্যাব টেকনিশিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে জোরালো তদারকি করা যাচ্ছে না। এতে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সূত্র : বণিক বার্তা
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম