Home / অপরাধ / সুন্দরবনে আইন ভেঙে আগাম মধু সংগ্রহ
245487 777999

সুন্দরবনে আইন ভেঙে আগাম মধু সংগ্রহ

ঢাকা, রবিবার ২৯ মার্চ ২০২৬ মাসস

সুন্দরবনে প্রতিবছর ১ এপ্রিল মধু সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলেও এর আগেই কিছু অসাধু মৌয়াল অপরিপক্ব মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করছে। এতে একদিকে যেমন মধুর স্বাভাবিক উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে মৌমাছির প্রজনন প্রক্রিয়া।

বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরিণত চাক কেটে নেওয়ার কারণে মৌমাছির ডিম ও লার্ভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের বংশ বিস্তার ব্যাহত করছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে পুরো বনের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কে।

চুরি করে আগাম মধু সংগ্রহের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে মধু সংগ্রহকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছে, কেননা মৌসুমে প্রত্যাশিত পরিমাণ মধু আর পাওয়া যাচ্ছে না।জানা গেছে, দেশব্যাপী সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুর ব্যাপক চাহিদা। তাই ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম পাওয়ার লোভে অসাধু মৌয়ালরা মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে অপরিপক্ব চাক থেকে মধু কাটছে।
তারপর লোকালয়ে এনে তা চড়া দামে বিক্রি করছে। এই মধু বিক্রি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুন্দরবনে গিয়ে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের ভিডিও প্রকাশ করছেন। এসব বিষয় বন বিভাগের নজরে আনলেও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরা গ্রামের মৌয়াল আব্দুর রহিম ও জামাল হোসেন বলেন, অপরিপক্ব চাক থেকে মধু সংগ্রহ করলে  মৌচাকের সংখ্যা কমে যায়।
এতে প্রকৃত মৌয়ালরা তাদের আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। বন থেকে আগাম সংগ্রহ করা  মধুর বেশিরভাগ বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের আওতাধীন বিভিন্ন স্থানে গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান তারা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌয়াল বলেন, এখন মধু কাটতে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া লাগছে না। মাছের পাশ নিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশ করে মধু কেটে আনছি। বিনিময়ে বন  কর্মকর্তাদের কিছু মধু দিতে হচ্ছে।
এ সময় মধুর অনেক দাম পাওয়া যায়। ভালো মধু হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে খুব চাহিদা থাকে। আমরা পাইকারি ১২০০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।

পেশাদার মৌয়ালরা এই অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের মতে, টেকসই মধু আহরণ নিশ্চিত করতে হলে নিয়ম মেনে মৌসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং মৌচাক সংরক্ষণ করা জরুরি।

বনবিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ হয়েছিল চার হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় তিন হাজার আট কুইন্টালে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরো কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ৮২৫ কুইন্টালে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বাড়ে। এ সময় মধু সংগ্রহ করা হয়েছিল তিন হাজার ১৮৩ কুইন্টাল। তবে চুরি করে সংগ্রহ করা মধু বনবিভাগের হিসাবের বাইরে থাকে। অন্যদিকে আগাম চাক কাটার কারণে মৌসুম শুরু হলে মধু কম পাওয়া যায়। ফলে বনবিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ১ এপ্রিল থেকে মধু সংগ্রহের পাশ দেওয়া হবে। আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি, যাতে সুন্দরবন থেকে কেউ মধু চুরি করতে না পারে। যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

5 7 26 1111

ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস বরিশালে অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা …