ঢাকা, রবিবার ২৯ মার্চ ২০২৬ মাসস
সুন্দরবনে প্রতিবছর ১ এপ্রিল মধু সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলেও এর আগেই কিছু অসাধু মৌয়াল অপরিপক্ব মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করছে। এতে একদিকে যেমন মধুর স্বাভাবিক উৎপাদন কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে মৌমাছির প্রজনন প্রক্রিয়া।
বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরিণত চাক কেটে নেওয়ার কারণে মৌমাছির ডিম ও লার্ভা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের বংশ বিস্তার ব্যাহত করছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে পুরো বনের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কে।
পেশাদার মৌয়ালরা এই অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাদের মতে, টেকসই মধু আহরণ নিশ্চিত করতে হলে নিয়ম মেনে মৌসুম শুরু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং মৌচাক সংরক্ষণ করা জরুরি।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ হয়েছিল চার হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় তিন হাজার আট কুইন্টালে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরো কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ৮২৫ কুইন্টালে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কিছুটা বাড়ে। এ সময় মধু সংগ্রহ করা হয়েছিল তিন হাজার ১৮৩ কুইন্টাল। তবে চুরি করে সংগ্রহ করা মধু বনবিভাগের হিসাবের বাইরে থাকে। অন্যদিকে আগাম চাক কাটার কারণে মৌসুম শুরু হলে মধু কম পাওয়া যায়। ফলে বনবিভাগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ১ এপ্রিল থেকে মধু সংগ্রহের পাশ দেওয়া হবে। আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি, যাতে সুন্দরবন থেকে কেউ মধু চুরি করতে না পারে। যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম