Home / আন্তর্জাতিক / কেমন ছিলো নবাব সিরাজউদ্দৌলার শেষ দিনগুলো
4 7 25 7 4

কেমন ছিলো নবাব সিরাজউদ্দৌলার শেষ দিনগুলো

ঢাকা, শুক্রবার ০৪ জুলাই ২০২৫ মাসস

লালবাগ কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ফারুক আবদুল্লা বলছিলেন, “তার দেহকে বহু খণ্ডে টুকরো টুকরো করা হয় এবং তার আগে তাকে অত্যাচারও করা হয়। তার দেহকে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করা হয় এবং সেই দেহখণ্ডগুলো বস্তায় ভরে হাতির পিঠে চড়িয়ে গোটা মুর্শিদাবাদ শহর ঘোরানো হয়েছিল।”

মুর্শিদাবাদেরই জিয়াগঞ্জ শ্রীপথ সিংহ কলেজে ইতিহাসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিষাণ কুমার গুপ্তের বিশ্লেষণে, “পলাশীর যুদ্ধ কী আটকানো যেত? এটা হতই। ইট ওয়াজ দ্য কালমিনেশন অফ ইভেন্টস।”

“আওরঙজেবের রাজত্বকাল থেকে যে সংকটটা শুরু হয়েছিল। শেষকালে জায়গিরদারি ব্যবস্থা বা মনসবদারি ব্যবস্থাটা এত তীব্র হলো তার ফলে কৃষি সংকটটা আরও তীব্র হয়ে চারিদিকে বিদ্রোহ হচ্ছে অতিরিক্ত করের বোঝার বিরুদ্ধে। এটা হিন্দু কৃষকদের মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নয়।”

“এবং ইংরেজরা ফিল্ড স্টাডি করে এটা বুঝতে পেরেছিল এবং তারা সার্চ করতে শুরু করেছিল কীভাবে ঢোকা যায় এবং তারা জানতে পারল যে নেটিভ যারা ফিউডাল লর্ডস তারাই তো ষড়যন্ত্র শুরু করেছে – অতএব তাদেরকে মদত দাও,” বলেন তিনি।

সিরাজের বিরুদ্ধে ওই ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে প্রথমেই যার নাম মানুষ জানেন, তিনি হলেন মীর জাফর।

ওই যুদ্ধের পর থেকেই বাংলা ভাষায় বিশ্বাসঘাতকতার আরেক নাম হয়ে গেছে মীর জাফর। তাদের সঙ্গে আরও অনেকের মধ্যেই ছিলেন জগৎ শেঠদের মতো ধনকুবের আর কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের মতো সামন্ত-প্রভুরাও।

“নিশ্চিতভাবেই মীর জাফর ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছিলেন,” বলছিলেন অধ্যাপক গুপ্ত।

পলাশীর যুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী টের পেয়ে ২৩শে জুনই নিজের রাজধানী মুর্শিদাবাদের দিকে উটের পিঠে চেপে রওনা হয়ে যান নবাব সিরাজউদ্দৌলা। হাজির হন গঙ্গার পশ্চিম তীরে তার নিজের শখের প্রাসাদ হীরা ঝিলে।

হীরা ঝিলের সেই প্রাসাদ আজ আর নেই। বেশিরভাগটাই গঙ্গায় তলিয়ে গেছে, কিছুটা অংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।

‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট’ সেই প্রাসাদ পুনরুদ্ধার করার জন্য অনেক দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, নানা সরকারের কাছে আবেদন করছে।

ওই ট্রাস্টের সভাপতি সমর্পিতা দত্ত বিবিসিকে বলছিলেন, “যখন পলাশীর, মানে ২৩ তারিখ হয়ে গেল, তারপর তিনি যখন ফিরে এলেন, হীরা ঝিলেই কিন্তু ফিরে এসেছিলেন। তখন তার মনে হলো যে মুর্শিদাবাদ থেকে আমি বেরিয়ে গিয়ে রাজমহলের দিকে যাব, গিয়ে আমি তারপর ফরাসিদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আবার ফিরে আসব। হীরা ঝিল থেকেই সেদিন লাস্ট বেরিয়ে গিয়েছিলেন – ২৪ তারিখ রাতে।”

পথেই তিনি ধরা পড়ে যান, তাকে ফিরিয়ে আনা হয় মুর্শিদাবাদে।

এবার আর হীরা ঝিলের প্রাসাদে নয়, তাকে বন্দি করা হলো মীর জাফরের প্রাসাদে।

কয়েকদিন বন্দি থাকার পরে তাকে হত্যা করা হয় দোসরা ও তেসরা জুলাই মধ্যরাতে।

লালবাগ কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক ফারুক আবদুল্লা বলছিলেন, “তার দেহকে বহু খণ্ডে টুকরো টুকরো করা হয় এবং তার আগে তাকে অত্যাচারও করা হয়। তার দেহকে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করা হয় এবং সেই দেহখণ্ডগুলো বস্তায় ভরে হাতির পিঠে চড়িয়ে গোটা মুর্শিদাবাদ শহর ঘোরানো হয়েছিল।”

সিরাজউদ্দৌলার দেহখণ্ডগুলো এরপরে নিয়ে যাওয়া হয় গঙ্গার পশ্চিম তীরে – খোসবাগে, তার পারিবারিক সমাধিক্ষেত্রে।

সেখানেই শায়িত আছেন তিনি।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

28 8 2026 5666

জামায়াতের তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়: রাশেদ খাঁন

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ । মাসস জামায়াতে ইসলামী গত ১৬ বছর আওয়ামী …