মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
চা-চাষে পঞ্চগড়ের খ্যাতি ছিলো। এবার খ্যাত হতে যাচ্ছে কমলা চাষে। বাসাবাড়ি ও স্বল্প পরিসরে ছোট ছোট বাগানে আশানুরূপ কমলার ফলনে কৃষকরাও আশাবাদি। স্থানীয়দের মতে, এখানে উৎপাদিত কমলার স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিংয়ের কমলার মতো। স্থানীয় কৃষি বিভাগের কারিগরী সহায়তায় জেলায় কমলা চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে। বাজারে চাহিদা থাকায় ও লাভজনক হওয়ায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকে কমলার বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। এসব বাগানে উৎপাদিত কমলার আকার, রং ও স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার কমলার মতো।
জেলার সদর উপজেলার, সাতমেরা, হাফিজাবাদ, হাড়িভাসা, চাকলাহাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছেন। কৃষকদের বাগানে কমলার ফলন ভাল হওয়ায় এসব এলাকায় অনেকে কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সদর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার ৭৫ হেক্টর জমিতে ৫০টি প্রদর্শনী প্লট ৪শ ২০টি বসত বাড়িতে কমলা চাষ করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদা ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের কমলার বাগানের মালিক সেফালি বেগম ৬ বিঘা জমিতে কমলার চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তিনি গত বছর ১ (এক ) লক্ষ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। এবার ২ (দুই) লক্ষ টাকার কমলা বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
একই এলাকার কমলার বাগান মালিক হাবিবুন নবী প্রধান ২০০৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কমলার চারা নিয়ে ৩ বছর পর ফল পান। পর পর তিন বার কমলা বিক্রি করেন। এবার চতুর্থ বার কমলা বিক্রি করছেন। কমলার চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। কমলার বাজার চাহিদা ভাল থাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়ছে। কমলা বিক্রি করতে কোন সমস্যা হয় না। কমলা বাড়ি থেকেই পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন এর মতে, পঞ্চগড় জেলার গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল কমলা। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ৫০টি প্রদর্শনী প্লটও ৪২০টি বসত বাড়িতে কমলা চাষ করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় বেশি। পঞ্চগড়ে কমলার চাষ করে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগ চাষিদের কমলার চাষের সকল প্রকার উপকরণসহ সহায়তা প্রদান করে আসছে।
তথ্যসূত্র: বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম