Home / চিত্র-বিচিত্র / ৪৯ দিন গভীর সমুদ্রে জীবনযুদ্ধ…
49+day+deep+sea+mbd

৪৯ দিন গভীর সমুদ্রে জীবনযুদ্ধ…

মাস্টারি বিডি
ঢাকা । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । ১২ আশ্বিন ১৪২৫

ইন্দোনেশিয়ার আলদি নোভেল আদিলাং নামের এক তরুণ গভীর সমুদ্রে টানা ৪৯ দিন ভেসে ছিলেন । মাছ ধরার জন্য কাঠ দিয়ে তৈরি ভেলায় থাকা অবস্থায় তিনি ঝড়ে পড়ে সাগরে ভেসে গিয়েছিলেন। গত ১৪ জুলাই সমুদ্রে প্রচণ্ড ঝড় হয়। ওই ঝড়ে ভেসে যায় ভেলাটি। সম্প্রতি তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

১৮ বছর বয়সী আলদি বেঁচে ছিলেন সমুদ্রের নোনাপানি ও লাফিয়ে ওঠা মাছ খেয়ে। ইন্দোনেশিয়ায় গভীর সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার স্থানীয় একটি পদ্ধতি হল ‘রমপং’। এই পদ্ধতিতে কাঠ দিয়ে একটি ভেলা তৈরির পর তার উপর কুঁড়ে ঘরের মতো একটি ছোট কক্ষ বানানো হয়। সেখানে একজন বা দু’জন মানুষ থাকতে পারেন।

এই ভেলায় আলো জ্বালানো হয়। সাগরে ঢেউয়ের তালে তালে ভেসে থাকা ভেলার সঙ্গে আলো দুলতে থাকে। এই রমপং পদ্ধতি হচ্ছে মাছ ধরতে আলোর ফাঁদ। পানিতে ঢেউয়ের তালে যখন ভেলার সঙ্গে আলো দুলতে থাকে, তখন ভেলার উপরে মাছ লাফিয়ে ওঠে।

সুলাবেসি দ্বীপের বাসিন্দা আলদি নোভেল আদিলাংলের কাজ ছিল রমপং বা ভেলায় আলো জ্বালানো। ভেলাটি ইন্দোনেশিয়ার উপকূল থেকে সাগরের ১২৫ কিলোমিটার গভীরে বাঁধা ছিল। এ ধরনের ভেলায় কোনো ইঞ্জিন বা বৈঠা ব্যবহার করা হয় না। অন্য নৌযান দিয়ে ভেলাটিকে গভীর সমুদ্রে নেওয়া হয়।

হঠাৎ ঝড়ে দড়ি ছিঁড়ে ভেলাটি সমুদ্রে ভেসে যায়। এরপর কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ অঞ্চল গুয়ামের কাছে গিয়ে পৌঁছে। সেখান থেকে পানামার একটি জাহাজ আদলিকে দেখতে পায় ও উদ্ধার করে। সাগরে অসহায় অবস্থায় তিনি চিৎকার করে কাঁদতেন। সাগরে ৪৯ দিন তার কেটেছে ভীষণ শঙ্কায়।

আলদি নোভেল আদিলাং যে ভেলায় থাকতেন, তাকে নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে খাবার পৌঁছে দেওয়া হতো। ফলে তার সঙ্গে থাকা খাবার ও পানি ফুরিয়ে গিয়েছিল। এরপর সাগরের নোনা পানি পান করতে হয়েছে তাকে। আর ভেলায় মাছ লাফিয়ে উঠলে, সেটি ধরে তিনি খেতেন। সূত্র : বিবিসি ও জাকার্তা পোস্ট

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

22 7 2026 1111

এলজিইডির নির্মাণাধীন একটি সেতু চালুর অপেক্ষায় পাঁচ লাখ মানুষ!

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | মাসস তিন মাস ধরে থেমে আছে এই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.