মাস্টারি বিডি ডটকম ।
বরগুনা । ১৫ নভেম্বর ২০১৭ । ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
আজ ১৫ নভেম্বর, সিডরের ১০ বছর। ২০০৭ সালের এ রাতে শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াল সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চল লন্ড-ভন্ড করে দিয়েছিল। উপকূলীয় অঞ্চলের শত-শত মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে যায়। নিখোঁজ হ’য়ে যায় বহু মানুষ। মারা যায় হাজার হাজার গবাদি পশু। আগের দিনও যে জনপদ ছিল মানুষের কোলাহলে মুখরিত, মাঠ জুড়ে ছিল কাঁচা-পাকা সোনালি ধানের সমারোহ, পরের দিনই সেই চির চেনা জনপদ পালটে যায়।
দিনটিকে স্মরণ করতে স্বজনহারা মানুষেরা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানসহ নানাবিধ আয়োজন করে থাকে।

১০ বছর পরে সেই স্মৃতি আজও যারা বেঁচে আছেন এবং তাদের মধ্যে যারা আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছেন সেই বিভীষিকাময় দিনটি মনে পড়লেই আঁতকে ওঠেন।
কেমন ছিল সেদিনকার আবহাওয়া
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপে সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। নিম্নচাপটি কয়েক বার গতি পরিবর্তন করে মধ্যরাতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে। রাতে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা উপকূলীয় অঞ্চলে। ঝড়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার পর শুরু হয় স্বজনদের খোঁজাখুঁজি। কারও বাবা নেই, কারও মা নেই। আবার কারও নেই স্ত্রী, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী, মামা-মামী, খালা-খালু, চাচা-চাচী, গাছের ডালে কিংবা বাড়ি ঘরের খুঁটির সঙ্গে ঝুুলে আছে স্বজনদের লাশ। যে দিকে চোখ যায় শুধু লাশ আর লাশ উপকূলের বাতাসে কানপাতলেই মৃত্যু পথযাত্রি শত মানুষের চিৎকার আর স্বজনদের আহাজারি। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেদিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও জেগে আছে স্বজনহারাদের মাঝে। দুঃস্বপ্নের মত আজও তাড়া করে তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরিশাল অঞ্চলের কার্যালয় জানিয়েছে, দেশের উপকূল সুরক্ষায় বর্তমানে ১২৩টি পোল্ডারের অধীনে পাউবোর পাঁচ হাজার ১০৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৯৫৭ কিলোমিটার হচ্ছে সমুদ্র-তীরবর্তী বাঁধ। সমুদ্রের তীরবর্তী এই বাঁধের সিংহভাগই বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার আওতায়।
সূত্র আরও জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরে উপকূলীয় অঞ্চলের দুই হাজার ৩৪১ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছয় জেলার প্রায় ১৮০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ এবং এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম