ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ মাসস
পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করলেন আমেরিকার টোরি পেন্সো। বৃহস্পতিবার চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এরপর তিনি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ‘কোকা-কোলা’-র অ্যাক্টিভেশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। সেখান থেকে যোগ দেন এনার্জি ড্রিংক জায়ান্ট ‘রেড বুল’-এ। রেড বুলে মার্কেটিং স্পেশালিস্ট ও স্যাম্পলিং ম্যানেজারের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘মার্কেটিং ডিরেক্টর’ পদে উন্নীত হন। তবে ২০১৭ সালে করপোরেট জগতের এই শীর্ষ পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে রেফারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।
রেফারিং ক্যারিয়ারেও একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন পেন্সো। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে ২০২০ সালে তিনি প্রথম নারী রেফারি হিসেবে আমেরিকার ছেলেদের প্রধান লিগ ‘মেজর লিগ সকার’-এর ম্যাচ পরিচালনা করেন।
২০২৩ সালে নারী ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম আমেরিকান রেফারি হিসেবে ম্যাচ পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েন তিনি। এর দুই বছর পর, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে (সুপার ম্যান্ডিয়াল ডি ক্লাবস) একমাত্র নারী রেফারি হিসেবে পেন্সো আল আইনের বিপক্ষে জুভেন্টাসের ৫-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটি সফলভাবে পরিচালনা করেন।
২০২৬ পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার জন্য যখন ফিফা তার নাম ঘোষণা করে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন পেন্সো। তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি যখন নিজের লক্ষ্যকে আরও উঁচুতে নিয়ে যান, তখন নিজেকেই নিজের সেরা সংস্করণ তৈরি করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। অন্য কেউ আপনার ওপর সীমাবদ্ধতার যে দেওয়াল টেনে দেয়, তা আপনি মেনে নেন না এবং একটি সুন্দর পৃথিবীর স্বপ্ন দেখে যান। আপনি যখন নিজে ওপরে উঠবেন, তখন চারপাশের মানুষদেরও ওপরে উঠতে অনুপ্রাণিত করবেন। জোয়ারের পানি যেভাবে সব নৌকাকে একসাথে ভাসিয়ে তোলে, বিষয়টি ঠিক তেমনই।’
ব্যক্তিগত জীবনে টোরি পেন্সো বিবাহিত। তার স্বামী ক্রিস পেন্সো নিজেও একজন পেশাদার ফুটবল রেফারি। এই রেফারি দম্পতির ঘরে তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম