মাস্টারি সংবাদ | প্রতিবেদক
ভাষার মাস | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ২০ মাঘ ১৪৩০
খাদ্যশস্যের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরের জেলা দিনাজপুর। এই জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুর হিলিতে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ পুরোদমে শুরু হয়েছে। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার কৃষকরা। বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ, সার, কীটনাশক, ডিজেলসহ সব কিছুর দামই বেশি।
উপজেলার জাংগই গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার খরচের হিসাব বেশি গুনতে হচ্ছে। পানি সেচের খরচ, জমি চাষ করা, সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ সব কিছুর দাম বেশি। তাই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনা হিসেবে উফশী জাতের ধানের বীজ ও সার পেয়ে খুব উপকার হয়েছে।’
উপজেলার চকচকা গ্রামের কৃষক জাকারিয়া বলেন, ‘হারা ছোটখাটো কৃষক মানুষ, হামার (আমার) বেশি আবাদি জমি নাই, মিচ্চে এ্যানা পাঁচ-ছয় বিঘা জমি চাষ করি। মানুষোক (মানুষ) নিয়ে কাম করে নেই না, নিজেই সব করি।’
উপজেলার জালালপুর বর্গাচাষি আলিম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, নিজের আবাদি জমি নাই বললেই চলে। অন্যের জমি চানা (বর্গা) নেই ইরি আবাদের জন্য, এক বিঘা জমি (৩৩ শতক) ১০ হাজার টাকা দিয়ে নিতে হয়েছে। বাজারে ইউরিয়া সার আগে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, পটাশ ৮০০ টাকা ও ডেপ এক হাজার টাকা ছিল। বর্তমানে ইউরিয়া এক হাজার ৩৫০, পটাশ এক হাজার ১৫০, ডেপ এক হাজার ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। জমি সেচের বাড়তি খরচ, সারের দাম, শ্রমিকদের মজুরি বেশি, সব কিছু মিলে কি হবে আল্লাহই ভালো জানেন!’
উপজেলার খাট্রাউচনা মাঠের জমি রোপণ করা শ্রমিক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে একটা দল তৈরি করেছি। দীর্ঘদিন থেকে ইরি, বোরো ও আমন ধানের চারা রোপণ করে থাকি। এবার ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) এক হাজার ৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। প্রতিদিন সাত থকে আট বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ করতেছি।’
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত হাজার ৫৭৪ হেক্টর। এরই মধ্যে উপজেলায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ করা শেষ হয়েছে।
সূত্র : কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম