Home / উদ্যোগ / শেরপুরে নৃ-গোষ্ঠী নারীদের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে
garo+nari+mbd-2

শেরপুরে নৃ-গোষ্ঠী নারীদের অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে

মাস্টারি বিডি ডটকম
শেরপুর । ০৭ জুন ২০১৭ । ২৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৪

শেরপুর জেলায় প্রায় ৩৫ হাজার গারো পাহাড়ের পাদদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি বসবাস রয়েছে। জেলায় গারো, কোচ, হাজং, ঢালু, বানাই ও বর্মনসহ মোট ৬টি নৃ-গোষ্ঠী জাতির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গারো সম্প্রদায়।

এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা গারো নারীরা এক সময় পিঠে তাদের সন্তানদের ঝুলিয়ে ক্ষেত-খামার ও হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য খুব চোখে পড়তো। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক নানা পরির্বতন এবং সময়ের চাহিদা’র কারণে সে দৃশ্য এখন আর খুব একটা চোখে পড়ে না।

এখন তারা ফসলের ক্ষেতে কাঁদা-মাটি ছেড়ে উঠে আসছে শিক্ষিত সমাজের বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মক্ষেত্রে। একই সাথে তারা দক্ষতার সাক্ষর রেখে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠছে দিন দিন।

garo+nari+mbd
জেলার ঝিনাইগাতি ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারি এবং মরিয়মনগর খ্রীষ্টান মিশন এলাকায় দুধনই ও ভারুয়া গ্রামের শত শত নারী নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে নিজেদের সংস্কৃতি ও রীতিকে পাশ কাটিয়ে পার্লার ব্যবসায় গিয়ে স্বাবলম্বী হবার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

কয়েক বছর আগেও যাদের চুলোয় আগুন জ্বলতো দিনের এক বেলা বা দু’বেলা। এখন ওইসব পরিবারের বাঁশ ও খড়ের এক চালা ঘর বদলে গিয়ে ইটের দালান হচ্ছে। এসব নারীদের মধ্যে বেশির ভাগই রয়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
উল্লেখিত গ্রামের প্রতি বাড়িতেই ২ থেকে ৫ জন করে নারী এ পার্লার ব্যবসা এবং শ্রমিক হিসেবে জেলা শহরের পাশপাশি ঢাকা-চট্টগ্রামের শতাধিক পার্লারে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। এদের অনেকেই এখন প্রথমে ঢাকা-চট্টগ্রামে কাজ শিখে শেরপুর এবং ঢাকাতেও নিজেরাই পার্লার ব্যবসার সাথে যুক্ত হচ্ছে। ফলে এদের ভাগ্যের চাকায় অনেক পরিবর্তন এসেছে।

চট্টগ্রামে একটি পার্লারে কাজ করেন জেসমিন মারার্ক ও তার বোন মাধুরী মারার্ক। জেসমিন মারার্ক বাসসকে জানায়, পড়াশোনার পাশপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে অনেক নারী পার্লারে কাজ করছে এবং তাদের পরিবারে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

মাধুরী চাম্বু একজন বিউটিসিয়ান বলেন, আমাদের আগে গারো বা মান্দি বলে মানুষ মূল্যায়ন করত না। এখন আমাদের আয় উন্নতি দেখে সমাজ আমাদেরকে অনেক মূল্যায়ন করে।

garo+nari+mbd-3

আমি প্রায় ১০ বছর আগে ঢাকায় একটি পার্লারে কাজ নেই। বর্তমানে আছি পার্সোনায়। এখানে কাজ করে আমি বেশ ভালো আয় করছি। বর্তমানে আমার জমানো টাকা দিয়ে বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণ করছি।

শেরপুরের বেবী বিউটি পার্লারের স্বত্বাধিকারী পানেলা রাকসাম জানায়, আমার মতো অনেক নারী তাদের পারিবারের সমস্যার কারণে ঢাকায় কাজ শিখে এসে নিজ এলাকা শেরপুরে বিভিন্ন পার্লারে কাজ করছে এবং পরিবারকে সহযোগিতা করছে। ঢাকায় কাজ শিখে কিছুদিন ঢাকায় থেকে পরবর্তিতে শেরপুরে এসে পার্লারের মালিক হয়ে অনেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছে।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নেত্রী ও ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন-এর সাবেক চেয়ারম্যান, রাবেতা ম্রং জানায়, এক সময় আমাদের নারীরা পিঠে শিশুদের নিয়ে মাঠে কাজ করতো। সেসময় তাদের কৃষি কাজের বিকল্প ছিল না। প্রত্যন্ত এ অঞ্চলের সাথে জেলা সদর ও রাজধানী ঢাকার যোগগাযোগ ভাল হওয়ার পর আদিবাসী নারীরা এ অভাবে সংসার থেকে বেড়িয়ে এসে লেখা-পড়া শিখে বেশ ভালো অবস্থায় উঠে আসছে। তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাড়িয়ে অভাবী সংসারের হাল ধরছে। বিশেষ করে এলাকার শত শত গারো নারী এখন পার্লার ব্যাবসায় গিয়ে বেশ ভালো করেছে। বর্তমানে কাজের দক্ষতার কারণেই পার্লার ও হোটেল এটেনটেন্স এ গারো নারীদের বেশ কদর রয়েছে।
শেরপুর জেলার সমাজসেবার উপ-পরিচালক মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, নর-নারীদের বিউটিসিয়ান প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

সূত্র : বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

17 3 26 77777

সাইবার ফাঁদে ১৩ হাজার নারী

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬ মাসস সাইবার স্পেসে প্রতিনিয়ত নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা। ভুক্তভোগী অনেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.