মাস্টারি বিডি ডটকম ।
বান্দরবান । ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ । ০১ ফাল্গুন ১৪২৪
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা শহরের মিশনঘাটে নির্মাণাধীন গার্ডার সেতু এলাকার ৩০ হাজার মানুষের জীবনমান পাল্টে দেবে। স্বাধীনতার ৪৮ বছরের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে একদা অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুযোগ নিশ্চিত এবং সহজিকরণের লক্ষ্যেই পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের উদ্যোগে এবং নির্দেশনায় এলাকবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবিটি পূরণ হতে চলেছে।
লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, লামা শহরের অদুরে মাতামুহুরী নদীর মিশনঘাটে একটি সেতুর অভাবে নৌকাসহ বিভিন্ন ভাসমান বাহন ব্যবহার করে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিবছরই বহুমানুষের প্রাণহানি ঘটে। নৌকাডুবিতে শিশুসহ এলাকাবাসী নিখোঁজও হন। গার্ডার সেতুটির নির্মাণ শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলের কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষের নদীর ওপর দিয়ে যাতায়াত নিশ্চিত হবে। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে লামা, রুপসীপাড়া এবং গজালিয়া ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম-পাড়ার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ নিরাপত্তার মাধ্যমে দিনরাত ২৪ ঘন্টাই যাতায়াত করতে পারবেন।
লামা পৌর মেয়র এম জহিরুল ইসলাম বলেন, পৌর শহরের পূর্ব-উত্তরাংশে একটি পাহাড়ের পরেই মাতামুহুরী নদীর ওপারে মেরাখোরা গ্রাম। এ গ্রামের মাঝখানেই প্রবাহিত মাতামুহুরী নদী। তবে মিশনঘাটের সিঁড়ির পাশে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে গার্ডার সেতুটির নির্মাণ হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে সহজতর সুযোগ পাওয়া ছাড়াও শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে। পৌর মেয়র জানান, উপজেলা শহরের কাছে থাকলেও এক সময় নদীর ওপারের প্রায় ৩০ হাজার পাহাড়ি ও বাংগালি সড়কপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ছিল। বর্ষায় নৌকা বা ভাসমান বাহন দিয়ে মানুষের যাতায়াত করতে হত। শুস্ক মৌসুমে হাঁটু কিংবা কোমর পানি ভেঙ্গে পারাপার করতে হত।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল আজিজ বলেন, উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মাণাধীন সিসি গার্ডার সেতুটি নদী পারাপারে স্থানীয়দের সেই কষ্ট আর পানির স্রোতে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে মুক্ত হবেন। ১৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুতে ৪টি স্পাম, ১২টি গার্ডারের কাজ সমাপ্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এ সেতুর নির্মাণ কাজের সূচনা করেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর সফল সমাপ্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকার এ সেতুর নির্মাণ কাজ পায়।
মিশনঘাট এলাকার এবং মেরাখোলা গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন, ফাতেমা, কামাল হোসেন এবং চিংহলা মারমা জানান, লামা মাতামুহুরী নদী পয়েন্টের মিশনঘাট বা মেরাখোলা-রাজবাড়ি এলাকায় গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে মেরাখোলা-ছোটবমুসহ আশপাশের কমপক্ষে ১০টি গ্রাম সহজেই সড়কপথের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। ফলে দুর্গম গ্রামে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণসহ বিদ্যালয়গামী ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতে উন্মোচিত হবে এক নতুন দিগন্ত। চলতি বছরের শেষদিকে সেতুটির কাজ পুরোপুরি শেষ হবে এবং উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে। বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম