মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১২ অক্টোবর ২০১৭ । ২৭ আশ্বিন ১৪২৪

প্রায় এক হাতেই দলকে টেনে তুললেন বিশ্বকাপে। নিজেকেও নিয়ে গেলেন নতুন উচ্চতায়। ইকুয়েডর হারাল ৩-১ গোলে, তিনটি গোলই তাঁর। তিনি মেসি! পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু প্রতিপক্ষ আর প্রতিপক্ষের কন্ডিশন, নিজেদের অতীত অভিজ্ঞতা আর বর্তমান ফর্মহীনতা- সব মিলিয়ে ডেথ জোনে ছিল আর্জেন্টিনা। স্টেডিয়ামের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার মিটার উচ্চতায় হওয়ার কারণে সব সময়ই ভিনদেশিদের শ্বাসকষ্টে ভোগার শঙ্কা থাকে। কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সঙ্গে ছিল ইকুয়েডরের বিপক্ষে সাফল্য খরার। এ মাঠে খেলতে আসা সর্বশেষ তিন ম্যাচের একটিতেও জয় নেই। বিশ্বকাপ বাছাইয়েরই প্রথম লেগে নিজেদের বুয়েন্স আয়ার্সেই ইকুয়েডরের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। শেষ তিন ম্যাচেই ড্র করে পয়েন্ট খোয়ানো, গত নভেম্বরের পর থেকে মেসি ছাড়া আর কোনো খেলোয়াড়ের গোল না পাওয়া, চোটে আক্রান্ত হয়ে সার্জিও অ্যাগুয়েরোরের অনুপোস্থিতি সব মিলিয়ে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ ছিল সম্মুখে। সেই চ্যালেঞ্জই পাহাড়সম হয়ে উঠল গতকাল ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পরপরই। নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া দূরে থাক, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আর্জেন্টিনার জালে ইকুয়েডরের গোল! চাপের ম্যাচে মেসি গুটিয়ে যান বলে এক ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এবার তো কেবল চাপ নয়, মহাচাপের চেয়েও বেশি কিছু! কুইটোর নয় হাজার ফুট ওপর থেকে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার অবস্থা!

অথচ ১২ মিনিটের মাথায় অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার সহায়তায় গোল করে আসলো সমতা। জাদুকর সেই মেসি। এর আট মিনিট পর প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তিনি। আর দ্বিতীয়ার্ধে জয় নিশ্চিতের গোলটি করলেন প্রায় একক প্রচেষ্টায়, তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে। এই গোল কেবল আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত কিংবা মেসির হ্যাটট্রিক গোলই নয়, বাছাইপর্বের অন্যতম দর্শনীয় গোলও বটে। দল উদ্ধার করা এই গোলের সুবাদে নিজের ক্যারিয়ারও হলো আরেকটু সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তার গোল এখন ২১টি, লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে যা সর্বোচ্চ। এবারের বাছাইয়ে মেসি অবশ্য সব ম্যাচ খেলতেও পারেননি। নিষেধাজ্ঞা আর চোটের কারণে ১৮ ম্যাচের আটটিতেই খেলতে পারেননি। আর্জেন্টিনা যে এবার মেসিতে ভর করেই বিশ্বকাপে উঠেছে, তার আরেক দৃষ্টান্ত মেসির না খেলা ম্যাচগুলো। মেসিবিহীন আট ম্যাচে আর্জেন্টিনার অর্জন মোটে ৭ পয়েন্ট! দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ দিন পর্যন্ত যে অপেক্ষা করতে হলো, তার কারণ পয়েন্টের ওই স্বল্পতাই। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে নামি স্ট্রাইকার সরবরাহ করা আর্জেন্টিনা ভুগেছে বেশি গোলখরায়। গত বছরের নভেম্বরে চিলিকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে গোল করেছিলেন ডি মারিয়া। তার পর থেকে গত এগারো মাসে মেসি ছাড়া আর কেউই গোল করতে পারেননি। মাঝে ভেনিজুয়েলা ম্যাচে এক গোল হয়েছিল আত্মঘাতী।
১৭ ম্যাচে ১৬ গোল করতে পারা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ফিরল মেসির কারণেই। মেসিই আর্জেন্টিনা, মেসিই স্বপ্ন, মেসিই মুক্তির বার্তাবাহক।
তথ্যসূত্র-সমকাল
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম