Home / জাতীয় / এলজিইডির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বদলে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের প্রান্তিক জনপদ
30 6 26 1

এলজিইডির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বদলে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের প্রান্তিক জনপদ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস

এলজিইডির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বদলে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের প্রান্তিক জনপদ| টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার আওতায় মোট সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৮২৬.৭০ কিলোমিটারে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে ২,৯৪৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা পাকা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬,৮৮১.২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ককে ক্রমান্বয়ে পাকা সড়কের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪.৫০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১,০৭৫.৪০ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭,৯৩৬.৮০ কিলোমিটার। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে ২৮৬.৭০ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্নে করতে এলজিইডি এই সড়ক সমূহে আনুমানিক ২,৫০০.০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেই যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৪.৯১৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭১.১৭৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৯.০৯১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় নির্মিত এই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলজিইডি পানির উৎস সৃষ্টি ও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি দিঘি/পুকুর সফলভাবে খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
টাঙ্গাইল শহরের চাকুরিজীবী উম্মুল কাউছার, রাফিউর রহমান, আজিজুল হক, আইনজীবী শামসুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলাম, নাসিমুল হক, রেজাউল করিম বাদশা, হুমায়ুন কবির সহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড়(বৈল্লা) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও চলাচলকারী মানুষচন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়কটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ করবে এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এলজিইডি সড়কটি পুণ:নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে- মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করছে।
ধনবাড়ীর কৃষক নাজমুল হাসান, পোল্ট্রী খামারের মালিক আজগর আলী, ব্যবসায়ী রহমত হোসেন, আলী ইসলাম, মুদি দোকানদার কায়েম উদ্দিন, শামসুল আলম, আ. কুদ্দুছ সহ অনেকেই জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর তাদেরকে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রী মুরগি ও ফিড, নিত্যপণ্য সহজেই আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।
বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম, হাসান আলী রেজা, ইসমত আরা, চাকুরিজীবী রাশেদ রহমান, আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ, আমির হামজা সহ অনেকেই জানান, ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত উন্নতমানের ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা’তে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি নিত্য ও কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী-চাকুরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের সহকার্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি-অকৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারি সহ উৎপাদনমুখি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জনগোষ্ঠি গ্রামীণসড়ক যোগাযোগের সুবিধাগ্রহণ করছে। তাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কম খরচে সহজে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার সাথে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ করে পণ্য বাজারজাত করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

2 6 6 26 7777

মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ, অভ্যন্তরীণ মাছ আহরণে দ্বিতীয়

বাংলাদেশ ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত …