Home / অর্থনীতি / ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা বড় জাহাজ কিনেছে ১৮ দেশ
13 9 25 1

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা বড় জাহাজ কিনেছে ১৮ দেশ

ঢাকা, শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ মাসস

‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা ৫০টিরও বেশি বড় জাহাজ কিনেছে ১৮টি দেশ। রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপ বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (এইওএসআইবি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণশিল্পে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। দেশে রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১২টি। বড় আকারের প্রতিষ্ঠান রয়েছে দুটি। এর একটি আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ। অপরটি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। বিদেশে রপ্তানি হওয়া জাহাজের মধ্যে বড় আকারের জাহাজ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করেছে এই দুটি প্রতিষ্ঠান।

২০০৮ সালে জার্মানির স্টেলা শিপিং কোম্পানির কাছে প্রথম ‘এমভি স্টেলা ম্যারিস’ নামের সমুদ্রগামী বহুমুখী পণ্য পরিবহনের উপযোগী জাহাজ রপ্তানি করে আনন্দ শিপইয়ার্ড। এরপর জাহাজ রপ্তানিতে যুক্ত হয় চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের ৫০টি বড় আকারের জাহাজ রপ্তানি করেছে।
জাহাজ নির্মাণশিল্পের সম্প্রতি এক সেমিনারে আইবিএফবির পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে এই শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আমরা ভারত, ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি। এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে দরকার কৌশলগত নীতি ও ব্যাংকগুলোর আর্থিক সহযোগিতা।’ তিনি বলেন, ‘জাহাজশিল্প থেকে আরও ব্যাপক আকারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ খাতের উন্নয়নে ৫০ লাখ ডলারের তহবিল দরকার। পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়নে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহায়তা দিতে হবে। সেই সঙ্গে জাহাজ রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ৬  থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করতে হবে। তাহলে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ হবে।’

প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও জাহাজ রপ্তানি শুরু করেছে আনন্দ শিপইয়ার্ড। তুরস্কের জন্য নির্মিত ৫ হাজার ৫০০ ডেডওয়েট টন ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক মাল্টিপারপাস ভেসেল ‘ওয়েস ওয়্যার’ গত ৮ সেপ্টেম্বর হস্তান্তরও করে তারা। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনাঘাট কারখানায় এ জাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় তুরস্কের প্রতিষ্ঠান নোপ্যাক শিপিং অ্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের কাছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইঞ্জিয়ান শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছে ৬,১০০ ডেডওয়েট টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জাহাজ রপ্তানি করেছিল। তখন সেটি ছিল বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিকৃত অন্যতম বৃহৎ জাহাজ।

অনুষ্ঠানে আনন্দ শিপইয়ার্ড অ্যান্ড স্লিপওয়েজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল্লা হেল বারী বলেন, ‘২০২২ সালের পর আমরা আবারও জাহাজ রপ্তানি শুরু করেছি। এবার তুরস্কে যে জাহাজ যাচ্ছে সেটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং প্রযুক্তিগতভাবে সবচেয়ে আধুনিক জাহাজ।’ তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে নির্মিত এই ভেসেল ‘ওয়েস ওয়্যার’-এ যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক নকশা ও প্রযুক্তি। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ ফুট, প্রস্থ ৫৫ ফুট ও গভীরতা ২৫ ফুট। ইস্পাতের কয়েল, কয়লা, সার, খাদ্যশস্যসহ বিপজ্জনক সামগ্রী বহনের উপযোগী করেই জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে দুই বছর পর আবার জাহাজ রপ্তানি শুরু করছে চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাজ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডও। জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘রায়ান’ নামের নতুন এক জাহাজ রপ্তানি করে তারা বন্ধ দুয়ার খোলে আবার। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ডিজিএম শাহিদুল বাশার বলেন, ‘এমভি রায়ান জাহাজটি ছিল ৬৯ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে চার মিটার গভীরতার। এরপরেও আমরা আরও বড় জাহাজ রপ্তানি করেছি। পর্যায়ক্রমে আরও সাতটি জাহাজ রপ্তানি করব বিভিন্ন দেশে। এই শিপইয়ার্ড এ পর্যন্ত বিশ্বের ১২টি দেশে ৩৪টি জাহাজ রপ্তানি করেছে। যেগুলোর দাম সব মিলিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।’

সূত্র : সমকাল

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

4 6 26 544

আগামী একবছর কী করবেন খলিলুর রহমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬ মাসস জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র …