Home / উদ্যোগ / ভোলায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প’র মাধ্যমে ৬৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ
akti+bari+akti+khamar+mbd

ভোলায় ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প’র মাধ্যমে ৬৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ভোলা । ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ । ০৩ ফাল্গুন ১৪২৪

ভোলা জেলায় একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৭ উপজেলার ৬৮টি ইউনিয়নের ৬’শ টি ওয়ার্ডে ৮শ’ ২৩টি সমিতির ৪৫ হাজার ১৮১ জন সদস্যের মাঝে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এ ঋণ বিতরণ করা হয়। এদের মধ্যে ৭০ ভাগ নারী ও ৩০ ভাগ পুরুষ সদস্য রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত উদ্যোগে চালু হওয়া এ প্রকল্প এখন বদলে দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য। সরকারের সঠিক কর্মপরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামের পরিবারগুলো স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) জেলা শাখা সূত্র জানায়, জেলায় গ্রামীণ অর্থনীতিকে ক্রমশই সমৃদ্ধ করছে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প। আর তাই প্রত্যেকটি বাড়িতে মাছ, হাস, মুরগি, কবুতর ও ছাগল পালনের একেকটি আদর্শ খামারে রূপান্তরিত হয়েছে। একজন সদস্যের মাঝে বছরে ৩০ হাজার টাকা করে নাম মাত্র সূদে এ ঋণ সহায়তা দেয়া হয়। আর এ অর্থ দিয়েই প্রকল্পের সদস্যরা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১’শ ৬১টি সমিতির ৯ হাজার ১২১জন সদস্যের মধ্যে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বোনহানউদ্দিনের ৯টি ইউনিয়নে ১১৩টি সমিতির ৫ হাজার ৬৫০ জনের মাঝে ৭ কোটি ১০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। দৌলতখানে ৯টি ইউনিয়নের ১০৪ টি সমিতির ৫ হাজার ৮২০ জনের মাঝে ৯ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। লালমোহনের ৯টি ইউনিয়নের ১১৭টি সমিতির ৬ হাজার ৪৯৩ জনের মধ্যে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

একইভাবে তজুমদ্দিন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৬১টি সমিতির ৩হাজার ৬৬০ সদস্যকে ৫ কোটি ১৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। চরফ্যাশনে ১৯টি ইউনিয়নে ২১৮টি সমিতির ১১হাজার ৪৯৯ জনের মাঝে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার টাকা ও মনপুরায় ৪টি ইউনয়নে ৪৯টি সমিতিতে ২ হাজার ৯’শ ৩৮ জন সদস্যের মধ্যে ৫কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

সদর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: ইউনুছ সংবাদমাধ্যমকে জানান, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন-প্রসূত বৃহৎ একটি সামাজিক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলের প্রতিটি বাড়ি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে নারীরা তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন পরিবারে। তাই ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যান্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কথা হয় উপজেলা সদরের শীবপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ রতনপুর গ্রাম উন্নয়ন দলের সদস্য নুরে আলম ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের সাথে। একসময় অনেক অর্থকষ্টে থাকলেও আজ তারা স্বনির্ভর। নূরে আলম আগে দিনমজুরের কাজ করলেও এখন স্বাবলম্বী। মূলত ২০১৩ সালে তারা ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সমিতির সদস্য হওয়ার পর থেকেই বদলাতে থাকে তাদের অবস্থা।

তারা জানান, প্রথম ২/৩ বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাদের। এখন তাদের বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি ও পুকুরে মাছ চাষ করছেন। ৫টি গরু রয়েছে। আরো রয়েছে ৩০টি মুরগি, ৫০টি হাঁস ও ১৬ জোড়া কবুতর। গত বছর মাছ, গরুর দুধ, সবজি ও ডিম বিক্রি করে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে। বর্তমানে ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার তাদের।

শুধু নূরে আলম ও নাসিমা বেগম নয়, মো: খোকন, মাসুদুর রহমান, ইছুব আলী, মফিজুল ইসলাম, রাবেয়া বেগম, নুরনাহার বেগমসহ আরো বহু নারী-পুরুষ তাদের নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন এ প্রকল্পের মাধ্যমে। একই সমিতির অপর সদস্য নুরনাহার বেগম বলেন, তার পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতল ও পুটির চাষ করা হয়। এছাড়া ২’শ মুরগি ও ১’শ হাঁস রয়েছে তার। এখান থেকে মুরগির মাংস ও হাঁসের ডিম উৎপাদন করে বর্তমানে তিনি স্বচ্ছল রয়েছেন।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা বিআরডিবি’র উপ-পরিচালক মো: আখতার হোসেন বাসস’কে বলেন, এ প্রকল্প জেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীবিকায়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে লাগসই এবং স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সার্বিক উন্নয়নে নারীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করছে।

সপ্তাহে একদিন প্রত্যেক সমিতর সদস্যদের নিয়ে উঠান বৈঠক করা হয়। বৈঠকে সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ ও বিভিন্ন পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের আরো কর্মদক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

-হাসনাইন আহমেদ মুন্না

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

18 7 25 2

তিস্তার বুকে জেগেওঠা চরে সোনালি আঁশের চাষ

ঢাকা, শুক্রবার ১৮ জুলাই ২০২৫ মাসস তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরে করা হয়েছে পাট চাষ। সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.