Home / জাতীয় / বিদেশে কেনো প্রিয় হয়ে উঠছে শিল্পীদের
210251

বিদেশে কেনো প্রিয় হয়ে উঠছে শিল্পীদের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২ অক্টোবর ২০২৫ মাসস

  • এক দশকে বেড়েছে বিদেশমুখিতা
  • এ সময়ে দেশ ছেড়েছেন শতাধিক তারকা
  • বেশির ভাগই গেছেন ইউরোপ-আমেরিকায়
  • উন্নত জীবনের হাতছানিই বড় কারণ
  • জুলাই আন্দোলনের পরও প্রবণতা কমেনি

তারকাদের বিদেশমুখিতা থামছে না, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ছে। গত এক দশকেই শতাধিক শিল্পী-কলাকুশলী ও তারকা বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন। এঁদের বেশির ভাগই গেছেন ইউরোপ-আমেরিকায়। উন্নত জীবন, নিরাপত্তা, বেশি আয়, দেশে কাজের সুযোগ কমে যাওয়াই বড় কারণ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

তবে জুলাই আন্দোলনের পরও কাজে বাধা ও অনিরাপদ বোধ থেকে অনেকের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে চলে যাওয়া তারকা এবং দেশের শোবিজজগতের অনেকের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই জানা গেছে।

‘ব্রেইন ড্রেন’ বলে ইংরেজিতে একটা কথা আছে, বাংলায় যেটাকে বলা হয় ‘মেধাপাচার’। ভাগ্যান্বেষণে উন্নয়নশীল দেশের দক্ষ ও শিক্ষিত জনবল উন্নত বিশ্বের দেশে পাড়ি জমালে সেটা হয় মেধাপাচার।

চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, প্রযুক্তিবিদ, ব্যবসায়ীরা নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গিয়ে সহজেই সেখানকার মূলধারায় মিশতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের শোবিজের প্রতিষ্ঠিত তারকা মুখদের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। পশ্চিমা দেশগুলোতে গিয়ে সহজেই মূলধারায় মিশতে পারেন না তাঁরা। গায়ের রং, ও সাংস্কৃতিক বৈপরীত্যের কারণে এখানকার অভিনয়শিল্পী, গায়ক-গায়িকা, চলচ্চিত্র নির্মাতারা আমেরিকায় গিয়ে হলিউডে কাজের সুযোগ পান না বলেই চলে।
বহু কাঠখড় পুড়িয়ে কেউ যদি সেখানকার টিভি সিরিজ-চলচ্চিত্রে সুযোগ পানও, সেটা একেবারেই গৌণ চরিত্রে। এমন অনিশ্চয়তা থাকার পরও গত এক দশকে ইউরোপ-আমেরিকার পশ্চিমা দেশগুলোতে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের শতাধিক তারকা শিল্পী ও কলাকুশলী। সেখানে গিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত পেশা বদলে ভিন্ন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেছেন তাঁরা।

ঢাকার শোবিজ তারকাদের আয়-রোজগার বেশ ভালোই। অন্তত মান বজায় রেখে আধুনিক জীবনযাত্রায় যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, মাঝারি মানের জনপ্রিয়তা পাওয়া যেকোনো তারকাই সেই অর্থ অনায়াসে রোজগার করতে পারেন।

তবু তাঁরা দেশ ছাড়েন, বিভিন্ন কারণে দেশান্তরি হন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা, উন্নত জীবনযাপন, সেকেন্ড হোম সুবিধা, ব্যস্ত ক্যারিয়ার শেষে বাকি জীবনটা নির্ভেজাল কাটানোর ইচ্ছা এর অন্যতম কারণ। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয় এবং শিল্পচর্চায় বাধা পেয়েও দেশ ছেড়েছেন অনেকে।

মোটাদাগে দুইবার দল বেঁধে শিল্পীদের দেশ ছাড়ার ঘটনা লক্ষ করা গেছে। আমেরিকার অভিবাসননীতিতে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তি সহজ হওয়ায় গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিল্পীদের দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়েছিল। করোনা মহামারির পরও ঢাকার শোবিজে কাজ কমে যাওয়ায় অনেকে দেশ ছেড়েছেন। আরেকবার এই ঘটনা ঘটে গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর।

৫ আগস্টের পর : আমেরিকায় নাগরিকত্বের আবেদনের ফাইল তৈরিতে শিল্পীদের সাহায্য করেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী, যাঁরা আগে থেকেই দেশটির নাগরিক। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হলো, ৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত কতজন শিল্পী তাঁদের মাধ্যমে আবেদন করেছেন? পেশাদারি ও গ্রাহকের গোপনীয়তা বজায় রাখার কথা বলে তাঁদের কেউই সংখ্যাটা বলেননি। কারণ নাম প্রকাশিত হলে গ্রিন কার্ড পেতে সমস্যা হয়। তবে আমেরিকায় অবস্থিত অভিনেতা জায়েদ খান জানান, প্রতিদিনই বাংলাদেশ থেকে শিল্পীদের অনেকে তাঁর কাছে জানতে চান, দেশ ছাড়তে হলে কী কী লাগবে? কত খরচ পড়বে?

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিল্পীদের অনেকে শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ নিয়েছিলেন। অনেকে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিও করেছেন। দেশ ছাড়ার তালিকায় তাঁদের নামই বেশি থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাঁদের অনেকে দেশেই আছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, ফেরদৌস, রিয়াজ, নিপুণ, সোহানা সাবা, মেহের আফরোজ শাওন, তানভীন সুইটি, জ্যোতিকা জ্যোতি দেশেই রয়েছেন। অনেকে দেশ ছাড়ার সাহস দেখাচ্ছেন না, যদি বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হতে হয়, এই ভয়ে। রাজনীতির সঙ্গে খুব একটা সম্পর্ক নেই, বরং এমন অনেক শিল্পীই দেশ ছাড়তে চাইছেন। কারণটা জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বয়োজ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে নারী শিল্পীদের অনেকেই দেশ ছাড়তে চাইছেন। সাম্প্রতিক সময়ে শোরুম উদ্বোধন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী, অপু বিশ্বাসসহ কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। মঞ্চনাটক, লালন মেলা ও কনসার্ট পণ্ড করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেক সংস্কৃতিকর্মী এটাকে দেখছেন শিল্পচর্চা, শিল্পী ও নারীর প্রতি বিদ্বেষ হিসেবে। ভিন্নমত দমনের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। তাঁরাই দেশ ছেড়েছেন বা ছাড়তে চাইছেন বেশি।’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজপথে ও অন্তর্জালে শোবিজের যাঁরা সোচ্চার হয়েছিলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের অনেকেই পরে প্রকাশ্যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান এবং অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের নাম এই ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যেতে পারে। অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদও জানিয়েছেন, অভ্যুত্থানের পর ১২ মাসেও তাঁকে অভিনয়ের জন্য কেউ ডাকেনি। অর্থাৎ কাজ পাচ্ছেন না। রাজপথের সম্মুখ সারির মুখগুলো যখন হতাশার কথা বলেন, তখন শোবিজের অন্যরাও ভিন্ন হিসাব কষেন। সেই হিসাব কষেই অনেকে দেশ ছাড়ার কথা ভেবেছেন, ভাবছেন।

শোবিজের যাঁরা এরই মধ্যে দেশ ছেড়েছেন, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করা গেছে। সাজু খাদেম, জায়েদ খান বাদে তাঁদের কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনেকে এখনো সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব পাননি। ভয় পাচ্ছেন, যদি মন্তব্যের কারণে তিনি গ্রিন কার্ড না পান।

কে কোথায় আছেন : জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় বেশ আলোচনায় এসেছিল হোয়াটসঅ্যাপের একটি চ্যাট গ্রুপ ‘আলো আসবেই’। এই গ্রুপের সদস্যদের অনেকেই শোবিজের মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছিলেন অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস। ৫ আগস্টের পরপরই তিনি দেশ ছেড়ে কানাডা চলে যান। অবশ্য আগে থেকেই তিনি দেশটির নাগরিক। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা অনেক দিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ। গত বছর ৩০ নভেম্বর চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্কক যাওয়ার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে এবং তাঁর স্বামী নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে আটকে দেওয়া হয়। চেকইন ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর বোর্ডিং শুরুর পাঁচ মিনিট আগে অভিবাসন পুলিশ কর্মকর্তা এসে তাঁদের ফিরিয়ে দেন। তবে বর্তমানে এই দম্পতি ব্যাঙ্ককেই রয়েছেন। বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে তাঁরা কিভাবে দেশটিতে গেলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

গত বছর ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন (১ আগস্ট) দেশ ছাড়েন অভিনেত্রী তারিন জাহান। প্রথমে গেলেন তুরস্ক, সেখান থেকে ভারত। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশটিতেই রয়েছেন অভিনেত্রী। তবে যুক্তরাষ্ট্রেই ঠাঁই নিয়েছেন বেশির ভাগ শিল্পী। তালিকায় রয়েছেন অভিনয়শিল্পী জায়েদ খান, সাইমন সাদিক, হৃদি হক, লিটু আনাম, অমিত হাসান, মাহিয়া মাহি, সাজু খাদেম, সোনিয়া হোসেন, নির্মাতা অমিতাভ রেজা, এস এ হক অলিক, পিকলু চৌধুরী, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল, কণ্ঠশিল্পী রেশমী মির্জা, উপস্থাপক-গায়ক তানভীর তারেক প্রমুখ। গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন অভিনেতা বাপ্পী চৌধুরী, কানাডা গেছেন অভিনেত্রী শিরিন শীলা। শোবিজজগতের কয়েকজন সাংবাদিকও এরই মধ্যে দেশ ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

ম্যাখোঁর দেশ ফ্রান্সে রাহুল আনন্দ : পরিবারসহ কখনো দেশ ছাড়তে হবে, ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি সংগীতশিল্পী রাহুল আনন্দ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিজে সমর্থন দিয়েছিলেন, নেমেছিলেন রাজপথেও। অথচ আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয়ের দিনে আক্রান্ত হলেন তিনি। গত বছর ৫ আগস্ট ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ৩২ নম্বর সংলগ্ন রাহুল আনন্দের বাড়িতেও তখন হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। শিল্পীর হাতে তৈরি শতাধিক বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেয় জনতা। সেই বাদ্যযন্ত্র, যেগুলো দেখতে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাহুল আনন্দের ‘ভাঙাবাড়ি’তে হাজির হয়েছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় সফরে এসে ম্যাখোঁ এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট কাটিয়েছেন রাহুল আনন্দের বাড়িতে। শিল্পীর জীবন এবং তাঁর তৈরি বাদ্যযন্ত্র দেখতে যাওয়ার এই ঘটনা সে সময় বিশ্বমিডিয়ায় বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরের জুলাইয়ে সেই রাহুল আনন্দ দেশ ছাড়লেন, ঠাঁই নিলেন ম্যাখোঁর দেশ ফ্রান্সেই।

চব্বিশের আগে : শাবানা থেকে শাকিব খান—ঢালিউডের দুই সময়ের সর্বোচ্চ জনপ্রিয় দুই তারকা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। ২০০০ সালে সপরিবারে আমেরিকায় স্থায়ী হন শাবানা, দেশে আসেন কালেভদ্রে। ২০২২ সালে আমেরিকার নাগরিক হন শাকিব খান। গ্রিন কার্ড পেয়ে দেশে ফিরে একের পর এক হিট চলচ্চিত্র উপহার দিচ্ছেন তিনি। অবসর সময়ে চলে যান আমেরিকায়। তাঁরও বহু আগে ভারতের কলকাতায় স্থায়ী হয়েছেন ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ খ্যাত অঞ্জু ঘোষ। ২০১২ সালে শাবনূর স্থায়ী হন অস্ট্রেলিয়ায়। মডেল-অভিনেত্রী মোনালিসা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ২০১৮ সালে। গত দশকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়া তারকাদের মধ্যে আরো আছেন অভিনয়শিল্পী টনি ডায়েস, কাজী খুরশীদুজ্জামান উৎপল, তমালিকা কর্মকার, ইপসিতা শবনম শ্রাবন্তী, রোমানা, রিচি সোলায়মান, নওশীন নাহরিন মৌ, আদনান ফারুক হিল্লোল, শান্তা ইসলাম, লুত্ফুন নাহার লতা, শামীম শাহেদ, কাজী মারুফ, মাহবুবা ইসলাম সুমী, বিপাশা হায়াত, তৌকীর আহমেদ, মৌসুমী, আনিসুর রহমান মিলন, নোভা ফিরোজ, সাঈদ বাবু প্রমুখ। সংগীতশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন বিপ্লব, ইমন সাহা; রয়েছেন মডেল রিয়াও। কানাডায় স্থায়ী হয়েছেন গায়ক তপন চৌধুরী, অভিনেত্রী শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, অগ্নিলা, আমব্রিন প্রমুখ। যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হয়েছেন অভিনয়শিল্পী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী, সোনিয়া, শায়না আমিন, স্মৃতি ফামি, সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ প্রমুখ। এ ছাড়া অভিনেত্রী তামান্না আছেন সুইডেনে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

29 6 25 2222

ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্নীতি ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই বাজেট প্রণয়ন করেছি : প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে …