Home / জাতীয় / অন্যান্য / চলুন ঘুরে আসি…
47232872_357583694819004_5019584121999982592_n (1)

চলুন ঘুরে আসি…

42046356_303

মাস্টারি বিডি । শিমুল আহসান
ফিচার বিভাগ । ২৯ নভেম্বর ২০১৮ । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

চলুন ঘুরে আসি…। ঘুরে আসি পর করে রাখা সেই স্মৃতিবিজড়িত গ্রামে। যেখানে যাচ্ছে শীতের সকাল রোদ পোহাচ্ছে কুয়াশামাখা অঢেল হলুদরাঙা সরিষা খেত। চলুন কর্মব্যস্ততার কোনো এক ফাঁকে দেখা করে আসি শস্যশ্যামল গ্রামের সেই শিশিরমাখা সবুজ ঘাসের সাথে। যেখানে গেলে আমাদের মন সত্যি আনন্দে দুলে উঠবে।

winter+heavy+dinajpur+mbd-2

কুয়াশার চাদরে ঢাকা মেঠোপথ দিয়ে গ্রামীণ জনপদের মানুষেরা হেঁটে যাচ্ছে দৈনন্দিন কাজে। সাধ্যমতো চাদর, মোটা কাপড় গায়ে দিয়ে, মাফলার বেঁধে শীত নিবারণের চেষ্টা তাদের। কোথাও ছেলে বুড়ো নানা বয়সের মানুষের আগুন পোহানো চলছে। হাতপা সেকে নিয়ে জীবনের নানা কাজে নানা কোলাহলে মেতে উঠছে।

Mustard fields on a misty winter morning near Jhansi, Madhya Pradesh, India

এই সময় গ্রামের পুকুর ডোবাগুলোয় পানি কমে গিয়ে একধরনের হালকা বিষাদ ছড়িয়ে যায় যেন। জলাশয়ের কিনারের কাদামাটি শুকিয়ে ফেটে ফেটে থাকে। সেদিকে তাকালেও একধরনের ভাবনা এসে নাড়া দেবে।

winter+heavy+8+mbd-3

প্রকৃত অর্থে গ্রামই হচ্ছে উৎপাদনের সূতিকাগার। এ মৌসুমে নতুন ধান কাটার ধুম। কৃষাণ-কৃষাণীরা ব্যস্ত নতুন ধান ঘরে তোলার কাজে। উঠানে ধানের গাদা থেকে সকালবেলা ধোঁয়াওঠার দৃশ্য চোখে পড়ে।

৯

পুকুরে বিলে পলো জাল ইত্যাদি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব। কাদাময় জল থেকে তাজা তাজা মাছ তুলে আনার আনন্দই আলাদা। আর সে দৃশ্য দেখতেও ভালো লাগে।

১১

এরইমধ্যে গ্রামে খেজুর গাছ কাটা শুরু হয়ে গেছে। খেজুর গাছের মাথা থেকে কৌশলে বের করে আনা হয় সুমিষ্ট রস। যারা খেজুর গাছ কাটেন তাদের গাছি বলা হয়। গাছি ও তাদের বধূরা এখন খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গাছের আগায় উঠে গাছ তৈরি করার দৃশ্য এখন চোখে পড়বে। আর কিছুদিন পরে ভোর সকালে ঠান্ডা সুমিষ্ট রস নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাবে গাছিদের। মাটির হাড়িতে ভারায় করে রস নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য, গুড় বানানোর দৃশ্য- এ যেন দৃষ্টিনন্দন এক শিল্পকলা।

২

কুয়াশাঢাকা সকালে শীতে কেঁপে কেঁপে মায়ের হাতের দুধচিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা। আবার ঠান্ডা পানিতে গোছল করে এসে সরিষার তেল গায়ে মেখে পিঠে রোদ ঠেকিয়ে পিঠা, পায়েশ কিংবা মাছভাত খাওয়ার আনন্দ কার না স্মৃতিতে নাড়া দেয়!

১২

এ সময় জমজমাট যাত্রাপালা চলে গ্রামে। মন চাইলে যাত্রা দেখে বিনোদিত হতে পারেন। ওহো, এটা বোধহয় আর হচ্ছে না! কারণ সময়ের বিবর্তনে এখন আর গ্রামে যাত্রাপালা হয় না। প্রায় হারাতে বসেছে এই শিল্পটি তার ঐতিহ্য। দুঃখ হলেও বাস্তবতা হচ্ছে- আপনাদেরকে এ আমন্ত্রণ আর আমি জানাতে পারবো না। কাজেই অতীত স্মৃতি মনে পড়ে গিয়ে একটি ভারী দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে যেতে পারে অগোচরে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

4 6 26 544

আগামী একবছর কী করবেন খলিলুর রহমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬ মাসস জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published.