মাস্টারি বিডি ডটকম
সাতক্ষীরা । ১৬ এপ্রিল ২০১৭ । ০৩ বৈশাখ ১৪২৪
দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ) বরাবরের মত এবারও সিটি ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রদান করেছে।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী চন্ডিপুর গ্রামের সদস্য সায়মা খাতুন এবার কৃষিতে শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পুরস্কার অর্জন করেছে। সায়মা খাতুন আট ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান সর্ব কনিষ্ঠ। অভাব-অনটনের সংসারে শিক্ষার খুব বেশি সুযোগ পাননি। তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৯৫ সালে ভূমিহীন মো. মান্দার মোল্লার দ্বিতীয় ছেলে মো. সফিকুল ইসলামের সাথে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়।
জীবনে পথ পরিবর্তনের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তিনি নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশনের (এনজিএফ) বুড়িগোয়ালিনী শাখা থেকে মাত্র ৪ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন জীবন সংগ্রামের যুদ্ধ। পর্যায়ক্রমে তিনি ঋণ গ্রহণ করেন এবং নানামুখী কৃষি পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করে লবণাক্ত পানিতে সোনা ফলিয়েছেন এবং তার প্রত্যেকটি উদ্যোগ ছিল পরিবেশবান্ধব। ২০০৯ সালে তিনি ৩ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং সিডর পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় সংস্থার বিভিন্ন কৃষি কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। পরে মনো সেক্স তেলাপিয়া, গলদা চিংড়ির মিশ্র চাষ, গরু ও ছাগল পালন এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ ইত্যাদি শুরু করেন। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এ অঞ্চলের পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে যুদ্ধ করে তার প্রত্যেকটি কৃষি উদ্যোগে সফলতা অর্জন করেন।
সর্বশেষ তিনি ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট এনজিএফ হতে পুনরায় ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ, গরু-ছাগল পালনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন। নিজের উৎপাদিত সবজির স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেন। সেই টাকায় এবার তিনি তার স্বপ্নের ঠিকানা পাকা বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। সফল সায়মা খাতুন শুধু নিজেরই আখের গোছাননি। পাশাপাশি তিনি আরও ৩০ জন মানুষের খন্ডকালীন কর্মসংস্থানের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমার সাফল্য এখানেই শেষ করতে চাই না। আমার এই উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে উন্নীত করে আরও অধিক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম