Home / অর্থনীতি / কৃষকদের ভাগ্য বদলাবে আইএফএমসি কৃষক মাঠস্কুল
mathschoolmagurambd

কৃষকদের ভাগ্য বদলাবে আইএফএমসি কৃষক মাঠস্কুল

মাস্টারি বিডি ডটকম
মাগুরা । ১১ অক্টোবর ২০১৬ । ২৬ আশ্বিন ১৪২৩

জেলার বিভিন্ন এলাকায় আধুনিক চাষাবাদসহ গবাদী পশুপালন, মৎস্য চাষ ও হাঁস-মুরগী পালনের জন্য সমন্বিত কর্মসূচি মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের হাতে কলমে শিক্ষাদানের জন্য ‘আইএফএমসি’ কৃষক মাঠস্কুল (এন্টিগ্রেটেড ফার্ম ম্যানেজমেন্ট ক্রপ কৃষক মাঠ স্কুল) গঠন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ ‘আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল’ পরিচালনা করছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি সমন্বিত কর্মসূচি। এর মাধ্যমে চাষাবাদ করে কৃষকরা অধিক ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি তারা যাতে গবাদী পশুপালন, মৎস্য চাষ ও হাঁস-মুরগী পালনসহ বৃক্ষ রোপনের মধ্যেমে বাড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ খামার গড়ে তুলতে পারে এ লক্ষে আইএফএমসি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক মাঠ স্কুল কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

তাদের দেয়া তথ্য মতে, ২০১৬ সালের মে মাস থেকে জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে ৩টি উপজেলার মোট ১৬টি স্কুলে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় ৫টি, মহম্মদপুর উপজেলায় ৬টি ও শালিখা উপজেলায় ৫টি স্কুলে এ কার্যক্রম চলছে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া আইএফএমসি স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষক-কৃষাণীরা হাতে কলমে চাষাবাদ বিষয়ে শিক্ষা নিচ্ছেন।

প্রশিক্ষক জাহিদুল ইসলাম তাদের আধুনিক চাষাবাদের বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান দিচ্ছেন। সেখানে ২৫ জন কৃষক-কৃষাণী মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করছেন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, শ্রীপুর উপজেলায় মোট ৫টি আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া ও সারঙ্গদিয়া, সব্দালপুর ইউনিয়নের নোহাটা ও সোনাতুন্দি এবং শ্রীকোল ইউনিয়নের ছোনগাছা গ্রামে আইএফএমসি কৃষক মাঠ স্কুলে কৃষক-কৃষাণীদের হাতে-কলমে শিক্ষাদান করা হয়ে থাকে। প্রতি স্কুলের অধীনে ২৫টি পরিবারের পুরুষ ও মহিলা সদস্য এ স্কুলে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকেন।

উপজেলার ৫টি স্কুলের মধ্যে ২টি স্কুলে ৪৭টি সেশন ও ৩টি স্কুলে ৩২টি সেশনে প্রতিদিন ৩ ঘন্টা করে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। পুরুষ সদস্যদের ধান, পাট, মৎস্য ও সবজি বিষয়ে এবং মহিলাদের ছাগল পালন, হাঁস মুরগী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ প্রভৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেই সাথে প্রতি কৃষক-কৃষাণীকে প্রতি ক্লাশের জন্য ৭০ টাকা হারে যাতায়াত ভাড়া প্রদানসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়। প্রতি সপ্তাহেতাদের ২টি করে ক্লাশ করতে হয়।

এসব স্কুলগুলো পরিচালনার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শিক্ষিত ও মেধাবী কৃষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে মনিটরিং কর্মকর্তা হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, উপজেলা কৃষি অফিসার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ট্যাগ এবং কৃষকদের মধ্য থেকে অধিক শিক্ষিত দু’জনকে সহায়তাকারি ফার্মারস্ ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল খালেক, শহীদ শেখ ও কৃষাণী বন্যা বেগম জানান, এ স্কুলে ক্লাশ করে তারা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন। আগে হাতের আন্দাজে জমিতে সার, কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার করতেন, এখন তারা পরিমাণ মত সার কীটনাশক ব্যবহার করে আগের চেয়ে বেশি ফসল ফলাচ্ছেন। তাছাড়া কোন সময়ে, কোন মাটিতে, কোন ফসলের চাষ করলে অধিক লাভবান হওয়া যায় সেটা তারা জানতে পারছেন। এছাড়া বাড়িতে হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল পালন বিষয়েও তারা নিয়ম-কানুন জানতে পারছেন।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পার্থ প্রতিম সাহা জানান, এটি একটি সমন্বিত কর্মসূচি। ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকরা যাতে চাষাবাদসহ গবাদী পশুপালন, মৎস্য চাষ ও হাঁস-মুরগী পালনসহ বৃক্ষ রোপণের মধ্যেমে কৃষকের বাড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ খামার গড়ে তুলতে পারে এ জন্য বর্তমান সরকার আইএফএমসি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক মাঠ স্কুল কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এটি এখন মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্কুলগুলোতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষক-কৃষাণীদের পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদের যাবতীয় বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন।-সংগৃহীত

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

29 6 25 1111

চলে গেলেন দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস বাংলাদেশে শিশুদের শিক্ষামূলক টেলিভিশন অনুষ্ঠান বলতে যে কয়েকটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.