মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২২ অক্টোবর ২০১৬ । ০৭ কার্তিক ১৪২৩
মহান মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার ও হেমায়েত বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বীরবীক্রম (৭৪) প্রয়াত হয়েছেন। শনিবার ভোরে ঢাকার মীরপুরস্থ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি… রাজেউন)।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি নিজ নামে হেমায়েত বাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বেই এ বাহিনী বৃহত্তর ফরিদপুরের গোপালগঞ্জ, কোটালীপাড়া, মাদারীপুর, কালকীনি ও বরিশালের উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলঝাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে হেমায়েত বাহিনী বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোটালীপাড়ার রামশীল ইউনিয়নের জহরেরকান্দির ঐতিহাসিক যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীকে চরমভাবে পর্যদস্ত করে হেমায়েত বাহিনী। ওই যুদ্ধে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। গুরুতর আহত হন হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রম।
জহরেরকান্দির যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত করে। বর্তমান সরকারের আমলে হেমায়েত উদ্দিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কোটালীপাড়ার টুপুরিয়া গ্রামে হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
আরো শোক প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কাজী আকরামউদ্দিন আহম্মদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবীর, পৌর মেয়র এইচ এম অহিদুল ইসলাম। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাগণ ও কোটালীপাড়া প্রেসক্লাবও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
তার মৃত্যুতে কোটালীপাড়ার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। হেমায়েত উদ্দিনের ছেলে মামুন জানান, সোমবার ১০টায় জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হবে। পরে মরদেহ কোটালীপাড়ার টুপুরিয়া গ্রামে তার বাড়ীতে আনা হবে। অতপর তার প্রতিষ্ঠিত হেমায়েত বাহিনী স্মৃতি যাদুঘর প্রাঙ্গণে বিকেল ৪টায় জানাজা শেষে তাকে সেখানে দাফন করা হবে।
সূত্র: বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম