মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৫ অক্টোবর ২০১৭ । ৩০ আশ্বিন ১৪২৪
আজ রোববার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ২০০৯ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। যার মূল উদ্দেশ্য- রোগ প্রতিরোধে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।
আজ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্বরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ২০১৭’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক বলেছেন, খাওয়ার আগে ও ল্যাট্রিন ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস পালনের মাধ্যমে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ইউনিসেফ-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বিগবেডার উপস্থিত ছিলেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী সুধীর কুমার ঘোষসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দফতরের প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সচিব আবদুল মালেক বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর ৩৫ লাখের বেশি শিশু শুধুমাত্র ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ বছরের আগেই মৃত্যুবরণ করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ এটা প্রমাণিত যে, খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পর মাত্র ২০ সেকেন্ড কেউ যদি নিয়মিত সাবান দিয়ে দু’হাত ভালভাবে ধোয় তবে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যুর হার অনেক কমে যাবে। আর সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী পন্থা- সাবান দিয়ে দু’হাত ধোয়ার অভ্যাস অনুশীলন করার মতো স্বাস্থ্যবিধি অনুকরণ করে লাখ লাখ শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক বলেন, সরকার স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার (হাইজিন) ক্ষেত্রে বাস্তবমুখী কার্যকরী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ফলে বর্তমানে প্রতিটি গ্রামে গড়ে ৫০টির বেশি টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। যেখানে আগে মানুষ পুকুরের পানি পান করতো এবং শিশুরা ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াজনিত নানা রোগে মারা যেত, সেখানে এখন পানিবাহিত তেমন রোগ দেখা যায় না।
তিনি বলেন, সরকার প্রতিটি স্কুল, বাজার ও জনসমাগমস্থানে টয়লেট করে দিচ্ছে। এছাড়া রাস্তার পাশেও এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বিগবেডার বলেন, সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার (হাইজিন) ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের যেকোন দেশের তুলনায় এক্ষেত্রে উন্নতি ছিল অনেকটা চোখে পড়ার মতো।
তিনি বলেন, স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার (হাইজিন) ক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ এখন বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে অনুকরণ করছে।
তিনি বলেন, ইউনিসেফ এ ক্ষেত্রে অতীতেও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছে, বর্তমানেও করছে, ভবিষ্যতেও করবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশের ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০১৭’ উদযাপনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘের আহ্বানে ২০০৮ সাল হতে প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘আমাদের হাত, আমাদের ভবিষ্যত’। হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা শুধুমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষাই করে না বরং ভবিষ্যত এবং সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জাতিসংঘ ঘোষিত ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ লক্ষ্যমাত্রা ৬.২ অনুযায়ী স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা (হাইজিন) বিষয়ে লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য সমতা ও পর্যাপ্ততার ভিত্তিতে স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যার সুযোগ সৃষ্টি করাসহ খোলা জায়গায় মলত্যাগ বন্ধ করা এবং নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান জনগোষ্ঠির স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য পরিচর্যার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা। বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন এ লক্ষ্যে গৃহীত কর্মকান্ডেরই একটি অংশ।
এর আগে আজ সকাল ৯ টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শিক্ষা ভবন থেকে শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে এখানে আলোচনা পর্ব শেষে সকাল সাড়ে ১০ টায় বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি দফতর, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এনজিও এবং বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীগণের অংশগ্রহণে হাত ধোয়া কার্যক্রমের মাধ্যমে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০১৭’ উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আজ মানিক মিয়া এভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ফুড সেফটি নেটওয়ার্কের (বিএফএসএন) শিক্ষার্থী সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

এদিকে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে শনিবার রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল মাঠে ১১ হাজার শিক্ষার্থীকে হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শেখানো হয়। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
চিকিৎসকরা বলেন, হাত ধোয়ার মতো সাধারণ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে শিশুদের আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিস, ডায়রিয়া, কৃমির মতো রোগের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়। হাতের লোমকূপের গোড়ায় এক বর্গমিলিমিটার জায়গায় ৫০ হাজার জীবাণু থাকতে পারে। যা খালি চোখে দেখা যায় না। সারাদিনের নানা কাজে নানা বস্তু স্পর্শ করার মাধ্যমে এসব জীবাণু হাতে আসে। এই হাতে অন্যজনকে স্পর্শ করলে, তার কাছেও জীবাণু ছড়ায়। তাই ময়লা-আবর্জনা স্পর্শ করার পর, হাত দিয়ে নাক ঝাড়লে অবশ্যই সাবান বা জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুতে হবে। শৌচকর্মের পরে ও খাওয়ার আগে জীবাণুমুক্ত করতে হাত ধুতে হবে।
হাত ধোয়া সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় বা ভালোভাবে হাত না ধুয়ে খাবার খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ৮০ শতাংশ রোগ ঠেকানো সম্ভব বলে জানান তিনি।
সৌজন্যে : বাসস ও সমকাল
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম