মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২২ নভেম্বর ২০১৬ । ০৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ফরাসী ঔপন্যাসিক আদ্রেঁ মালরোঁর ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালা আজ মঙ্গলবার ঢাকায় শুরু হয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকার ফরাসী দূতাবাস, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এ ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।
মালরোঁর স্মরণে আজ ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে বিকেল ৫ টায় শুরু হয়েছে মালরোঁর রচনা থেকে পাঠ, আলোচনা ও তাঁর পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। ‘মালরোঁকে মনে পড়ে’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে আগামীকাল ২৩ নভেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। এ অনুষ্ঠানে মারলোঁর স্মৃতিচারণ করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ড. গুরুপদ চক্রবর্তী, ঢাকায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত সোফি অবার্ট এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা।
এসময় মানুষের মুক্তি কামনায় মুক্তির সপক্ষে তৈরি ‘ড্রয়িং ফ্রিলি’ শীর্ষক সংবাদ কার্টুন প্রদর্শনী এবং প্যারিস এ্যাটাকের ভিত্তিতে ‘নভেম্বর ইন প্যারিস’ শীর্ষক দিনব্যাপি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। এদিন ১৯৭৩ সালে মারলোঁর বাংলাদেশ সফরের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এর পর রয়েছে নাটক। ড. গুরুপদ চক্রবর্তী অনূদিত মারলোঁ রচিত উপন্যাস ‘আশা’র নাট্যরূপ থেকে এ নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে।
সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘‘গণসংস্কৃতির নীতিমালা এবং সংস্কৃতির জন্য বেসরকারি উদ্যোগ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। এতে আলোচনায় অংশ নেবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, অধ্যাপক কায়সার হক, ঢাকা আর্ট সামিটের নাদিয়া সামদানি, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক এ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন।
২৬ নভেম্বর, শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় চট্টগ্রামে আলিয়ঁস ফ্রসেজের উদ্যোগে আলোচনা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশে ফ্রান্সের ডেপুটি হেড অব মিশন ও কালাচারাল কাউন্সিলর জেন পিঁয়েরি পঁেনট ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. শামসুল আরেফিন।
আঁদ্রে মালরো ফরাসী ঔপন্যাসিক। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তার চেয়েও বড় পরিচয় মালরোঁ বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন যুগিয়েছেন। তিনি সেসময় বাংলাদেশের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ব্রিগেড গড়ে তোলারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালরোঁর অবদানকে সম্মান জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানালে তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানান। বর্তমান সরকার আঁদ্রে মারলোঁকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করে।
আঁদ্রে মালরোঁ ১৯০১ সালের ৩ নভেম্বর প্যারিসে জন্মগহণ করেন এবং ১৯৭৬ সালের ২৩ নভেম্বর ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সোমবার সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের পরিচালক ব্রুনো প্লাসে এবং শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো: জাহাঙ্গির হোসেন।-বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম