মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৪ মার্চ ২০১৭ । ৩০ ফাল্গুন ১৪২৩
বঙ্গবন্ধুর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে এর মোড়ক উন্মোচন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
বইটির লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম। বইটি প্রকাশ করেছে একাত্তর প্রকাশনী।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাবি অধ্যাপক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- কলামিস্ট ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদ।
আরো বক্তব্য রাখেন একাত্তর প্রকাশনীর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু আলম মো. শহীদ খান প্রমুখ।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে দেশ এবং বিশ্ব জয় করেছিলেন সুদর্শন ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর (বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) ভাষণ শুনতে লাখ লাখ মানুষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হয়েছিল। ইতিহাস সবসময় থাকবে এবং বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে বিরাজ করবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, তরুণ প্রজন্মের কেউ বঙ্গবন্ধুকে দেখে নাই। বঙ্গবন্ধুকে কেউ দেখলে তাকে ভুলতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলে তার কাছ থেকে কেউ ফিরে আসতে চায় না। দুঃখ লাগে যখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা হয়। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব। পৃথিবীর অন্য কোন দেশে জাতির পিতাকে নিয়ে সমালোচনা হয় না। আর শুধু বই লিখে বঙ্গবন্ধুকে বড় করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু মানুষের হৃদয়ে আছে। বই লিখে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো যায়, ভালবাসা যায়। বঙ্গবন্ধু জীবনের সবকিছু দিয়ে মানুষকে ভালোবেসেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাহসী, একাগ্র আর লক্ষ্যের প্রতি অবিচল। বঙ্গবন্ধুর জীবনের ছোটো অংশ দিয়েও গ্রন্থ রচনা করা যায়।
আগামী নির্বাচনে একাত্তরের ঘাতকদের বর্জন করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ থাকার কোন সুযোগ নেই। হয় সত্যের পক্ষে না হয় অন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে। এই দুইটির মাঝখানে থাকার কোন সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচনে একাত্তরের ঘাতকদের আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে দিতে পারি না। ওদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেন, লেখক তার গ্রন্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু দুর্লভ ছবি ছাড়াও তাঁর (বঙ্গবন্ধু) রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন তুলে ধরেছেন।
আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের স্বাধীনতা দিয়ে ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশ দিয়েছেন। দিয়েছেন শিক্ষকদের মর্যাদা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তার আদর্শকে বন্ধ করা যাবে না। তিনি অবিনশ্বর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি, আদর্শ ও দর্শনকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম