Home / জাতীয় / ডপলার রিসার্চের জরিপ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ
27 7 26 5

ডপলার রিসার্চের জরিপ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ । মাসস

দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট বলে জাতীয় জনমত জরিপে উঠে এসেছে। স্বাধীন জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় পরিচালিত এ জরিপের ফল বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়।

জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সমর্থন পাওয়া গেলেও সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড এবং দেশ কোন পথে এগোচ্ছে- এ দুটি বিষয়ে সন্তুষ্টির হার কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।Õ

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে মানুষের মধ্যে আশাবাদ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে অনেকে মনে করছেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। উত্তরদাতাদের কাছে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।

চলতি আগস্টে জরিপটির মাঠপর্যায়ের কাজ পরিচালনা করা হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্কদের একটি প্যানেলের ওপর জরিপটি চালানো হয়। এ সময় মোট ১০ হাজার ৪১৩টি কল করা হয়েছে।

‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ডপলার রিসার্চ বলেছে, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিচালিত জরিপের সামগ্রিক চিত্রকে ‘সতর্ক আশাবাদ’ হিসেবে দেখা যায়। মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাজে সন্তুষ্ট হলেও দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। একইভাবে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব উন্নতি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও অনেকে এখনো নিশ্চিত নন।

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টি সরকারের চেয়ে বেশি

জরিপে অংশ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করছেন। বিপরীতে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন, তিনি ভালো করছেন না। আর ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মতামত দেননি বা উত্তর দিতে চাননি।

বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতেই এ হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ বা তার বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার সরকারের কর্মকাণ্ডের তুলনায় বেশি। এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। দলীয় সমর্থনের বিভিন্ন গোষ্ঠীতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে- প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার সরকারের চেয়ে বেশি এবং সরকারের মূল্যায়ন দেশের সামগ্রিক গতিপথের মূল্যায়নের চেয়ে বেশি।

দেশ সঠিক পথে, মনে করেন ৪৮.৬ শতাংশ

জরিপে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি। জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ অনুত্তরিত হার।

বিভিন্ন প্রশ্নের মধ্যে এই বিষয়েই মতপার্থক্য সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করেন, দেশ সঠিক পথে রয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে এ হার সর্বনিম্ন- ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

খাদ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ

কোনো তালিকা না দিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জানতে চাইলে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কথা বলেছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামকে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলেছেন ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর আইনশৃঙ্খলা ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কর্মসংস্থান ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতার কাছে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত দুটি খাতেই সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন তুলনামূলকভাবে খারাপ। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন। জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এমন মত ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশের। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের বিষয়ে ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন।

কঠিন এক বছর, সামনে ভালো সময়ের প্রত্যাশা

জরিপে ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। বিপরীতে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

আগামী ১২ মাসে পরিবারের অবস্থা ভালো হবে বলে আশা করছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ এক বছর আগের তুলনায় বেশি আশাবাদী। ৩৯ শতাংশ কম আশাবাদী এবং ৬ দশমিক ২ শতাংশের মতে পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ফ্যামিলি কার্ড ও করনীতিতে সমর্থন

জরিপে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া গেছে। করনীতিকে সমর্থন করেছেন ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ৭০ শতাংশ মনে করেন, সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।

বিরোধী নেতাদের নিয়েও জরিপ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কর্মকাণ্ডকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

নারী ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাবোধ তুলনামূলক কম

নিজ এলাকায় সন্ধ্যার পর একা হাঁটার ক্ষেত্রে ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী নিরাপদ বোধ করেন। পুরুষদের মধ্যে এ হার ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রকাশ্যে ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা নিজেদের নিরাপদ মনে করেন। মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে এ হার ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং হিন্দু উত্তরদাতাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 8 2026 777778

বাউথার ওহাব বেপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবন নির্মাণ করলো এলজিইডি

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ । মাসস ঢাকার গুলশানে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও …