ঢাকা, রবিবার ০১ মার্চ ২০২৬ মাসস
আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, আইএমএফের সাবেক পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক। এ রকম একজন ব্যক্তিকে যখন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তখন অনেকেই আশান্বিত হয়েছিলেন।
অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেওয়া নানা পদক্ষেপের সমালোচনা করে এসব কথা বলেছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপেও গত দেড় বছরে তা খুব বেশি কমেনি। গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিন দফা নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছেন। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি না কমে বরং ঋণের সুদহার বেড়ে সর্বোচ্চ ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা বিনিয়োগের অন্যতম বাধা হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাজার কিন্তু বুঝতে পারে যে টাকা ছাপানো হয়েছে কি না। কারণ টাকার বিপরীতে যদি পণ্য উৎপাদন না থাকে, তাহলে মূল্যস্ফীতি হতে বাধ্য। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ যদি অন্যতম লক্ষ্য হয়, তাহলে টাকা ছাপানোর চিন্তা যেন স্বপ্নেও না আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতে গলদ ছিল বলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) চেয়ারম্যান তাসকিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘস্থায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি তথা ১০ শতাংশ নীতি সুদহার বজায় রাখলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, বরং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, গত ডিসেম্বরে যার পরিমাণ ৬ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। নীতি সুদহারের প্রভাবে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ এ ধরনের অকার্যকর মুদ্রানীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।
শুধু তা-ই নয়, বিনিময় হার জোর করে ধরে রেখেছিলেন সাবেক গভর্নর। এর পরও রপ্তানি খাতে এই নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত ছয় মাসে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমে সর্বশেষ ডিসেম্বরে ঋণাত্মক (-১৪.২৫) শতাংশে নেমে গেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে দুর্বল করে তুলছে। এটা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
এমন বাস্তবতায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর যে নীতিতে চলেছেন, তাতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে নীতি সুদহার কমানোসহ একটি বাস্তবভিত্তিক ও প্রবৃদ্ধিবান্ধব মুদ্রানীতি প্রত্যাশা করেন তিনি। যেখানে রাজস্ব ও মুদ্রা ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ, নমনীয় তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি সুস্পষ্ট ভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে।’
সিপিডির মতে, ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে চারটি প্রধান খাতে নতুন সরকারকে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ত, সুদের হার কমানো। তৃতীয়ত, টাকার মূল্যমান কিছুটা কমানো এবং চতুর্থত, দায়দেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ। যার সবগুলোই বাংলাদেশ ব্যাংককে করতে হবে। আহসান এইচ মনসুর যেটা করতে পারেননি বা করেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলছেন, আহসান মনসুর মূলত একজন আইএমএফের দালাল। ওরা যা বলছে, সাবেক গভর্নর তা-ই করেছেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণ নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে বসে আইএমএফের স্বার্থ দেখেছেন। এতে দেশের অর্থনীতির বারোটা বেজেছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম