মাস্টারি বিডি ডটকম
ভোলা । ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ । ১৮ মাঘ ১৪২৩
জেলার সদর উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। শহরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডের অপর পাশে চরজংলা এলাকায় ২ একর জমির উপর প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এখানে হ্যাচারি, লেয়ার শেড, ডরমেটরি, অফিস ভবন, গুদাম ঘর, পাম্প হাউজ ইত্যাদির কাজ শেষ পর্যায়ে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার বাসস’কে জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহের দুর্ভোগ কমবে। আগে দূর-দূরান্ত থেকে হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করত হতো খামারীদের। এখন স্বল্প মূল্যে ও কম সময়ে নিজ জেলাতে পাওয়া যাবে উন্নত হাঁসের ডিম ও বাচ্চা। এর মাধ্যমে জেলায় ৫০০ জন হাঁস পালনকারীকে প্রশিক্ষণের কর্মসূচির আওতায় নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০০ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দক্ষ হয়ে উঠছে আমাদের খামারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২শ’ ৫০ টি হাঁসের খামার রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ হাঁসের সংখ্যা রয়েছে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৮ টি ও রাজহাঁস রয়েছে প্রায় ২ লাখ। এই খামারে প্রজননের মাধ্যমে উন্নত মানের ডিম বিক্রি করা হবে। এছাড়া এখানে একসাথে প্রায় ১২ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করার ব্যবস্থা থাকবে। খামারীরা চাইলে বাচ্চা কিনেও প্রতিপালন করতে পারবে। আর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে হাঁস পালনকারীদের।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো বলেন, এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ৩ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। সামনের দিকে আরো কিছু কাজ হবে। বেশ কয়েকজনকে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে এখানে। বর্তমানে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে এর কার্যক্রম। চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই এখান থেকে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের কথা রয়েছে। এছাড়া সম্পূর্ণ সরকারিভাবে বিনামূল্যে মানুষের কাছে হাঁসের বাচ্চা বিতরণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে জেলায় হাঁস প্রজনন খামার স্থাপনে আনন্দ প্রকাশ করেছে খামারীরা। আগে বিভিন্ন জেলা থেকে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করতে হতো তাদের। এতে করে অর্থ ও সময় দুটোই নষ্ট হতো তাদের। আর সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক বাচ্চা মারা পড়ত। ফলে আশানুরূপ লাভ হতোনা অনেকের। তাই প্রজনন খামারটি চালু হলে সেই সমস্যা থাকছেনা তাদের। এ জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
উপজেলা সদরের চরচটকিমারা এলাকার খামারী মোসলেউদ্দিন বলেন, চারদিকে নদীবেষ্টিত ভোলায় প্রচুর চরাঞ্চল ও বিলাঞ্চল রয়েছে। এসব স্থানে অনেকই এখন হাঁস পালনের প্রতি আগ্রহী। স্থানীয়ভাবে হাঁসের বাচ্চা পাওয়া গেলে খামারীর সংখ্যা আরো বাড়বে।
ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন বাসস’কে বলেন, দ্বীপ জেলায় হাঁস প্রজনন খামার নির্মাণ সরকারের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে আমাদের প্রাণিজ আমিষের অভাব দূর হবে। আর এই অঞ্চলে হাঁসের প্রাকৃতিক খাবার শামুক প্রচুর পাওয়া যায়। ফলে সরকারি হাঁসের খামার থেকে বাচ্চা পাওয়া গেলে খামারীরা লাভবান হবে। কৃষি সমৃদ্ধ জেলা আরো সমৃদ্ধ হবে।
-হাসনাইন আহমেদ মুন্না
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম