
মাস্টারি বিডি | শিমুল আহসান
সাহিত্য | ঢাকা | ১৬ আগস্ট ২০১৯ | ০১ ভাদ্র ১৪২৬
দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমান আর নেই। শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এই লেখিকার। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
রিজিয়া রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। রক্তের সংক্রমণের কারণে ঈদের পরদিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

১৯৩৯ সালে কলকাতার ভবানীপুরে রিজিয়া রহমানের জন্ম। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে তিনি এপার বাংলায় চলে আসেন।
ষাটের দশক থেকে গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্যসহ সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার মূল পরিচিতি ঔপন্যাসিক হিসেবে।

বরেণ্য কথাশিল্পী রিজিয়া রহমানের পরিবারে ছিল একটি সাংস্কৃতিক আবহ। চিকিৎসক বাবা আবুল খায়ের এস্রাজ আর বাঁশি বাজাতেন। মা মরিয়াম বেগমও গান ভালোবাসতেন। বাড়িতে ছিল ঘরভর্তি বই।
ইডেন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক আর ডিগ্রি পাস করেন রিজিয়া রহমান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে করেন মাস্টার্স।

শৈশব থেকে জীবনের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা আর নানা জায়গায় দেখা নিম্নবর্গের মানুষের জীবনের গল্প উঠে এসেছে রিজিয়া রহমানের লেখায়। বস্তিবাসীর ক্লেদাক্ত জীবন আর যৌনপল্লীর যন্ত্রণাকাতর প্রাত্যহিকতা যেমন তার উপন্যাসে এসেছে, তেমনি চট্টগ্রামে পর্তুগিজ জলদস্যুদের উৎপাত আর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বীরত্বও তার লেখায় প্রেরণা যুগিয়েছে।
‘বং থেকে বাংলা’ উপন্যাসে রিজিয়া লিখেছেন বাঙালির জাতিগঠন ও ভাষার বিবর্তনের গল্প। তার ‘শিলায় শিলায় আগুন’ বলেছে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের নিপীড়িত মানুষের স্বাধীনতার চেতনার কথা। আর ‘একাল চিরকাল’ ধারণ করেছে সাঁওতাল জীবনের আনন্দ, বেদনা, শোষণ, বঞ্চনার কথামালা।

সহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান রিজিয়া রহমান। আর চলতি বছর তিনি অর্জন করেন একুশে পদক।
অগ্নিস্বাক্ষরা, ঘর ভাঙা ঘর, উত্তর পুরুষ, রক্তের অক্ষর, বং থেকে বাংলা, অরণ্যের কাছে, শিলায় শিলায় আগুন, অলিখিত উপাখ্যান, ধবল জোৎস্না, সূর্য সবুজ রক্ত, একাল চিরকাল, হে মানব মানবী, হারুন ফেরেনি, পবিত্র নারীরা, সীতা পাহাড়ে আগুন, উৎসে ফেরা তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এ ছাড়াও অভিবাসী আমি ও নদী নিরবধি নামে দুইটি আত্মজীবনীও লিখেছেন খ্যাতনামা এই ঔপন্যাসিক।

রিজিয়া রহমান বেশ কিছুদিন একটি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলা একাডেমীর কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের কার্য পরিচালক এবং জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনা বোর্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কথাসাহিত্যিক রিজিয়া রহমানের মৃত্যুর খবরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম