Home / ফটো গ্যালারি / স্বপ্নের নায়িকা
suchitra+actress+mbd

স্বপ্নের নায়িকা

… উত্তম-সুচিত্রা প্রায় বিশ বছর বাঙালি হৃদয়ের আরাধ্য জুটি হিসেবে ভালোবাসায় সিক্ত হন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রীর স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জুটি হিসেবে উত্তম-সুচিত্রা’র উপমা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ধ্রুপদ ধারার অভিনয়েও সুচিত্রার সুখ্যাতি সুবিস্তৃত। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম অভিনেত্রী- যিনি সর্বাগ্রে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাত পাঁকে বাধা’ ছবির জন্য ১৯৬৩ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন।…

Suchitra+sen+uttam+kumar+mbd-ok

মাস্টারি বিডি ডটকম । শেখ নজরুল
ঢাকা । ২০ জানুয়ারি ২০১৮ । ০৭ মাঘ ১৪২৪

রমা দাসগুপ্ত। নামটির সঙ্গে মনে পড়ছে ‘পথে হলো দেরী’ চলচ্চিত্রের কথা। উত্তম কুমার সিঁড়ি বেয়ে উঠতে বারবার রমা রমা নাম উচ্চারণ করছিলেন। যার সঙ্গে জুটি বেঁধে সুচিত্রা সেন বাঙালির ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন, আরাধ্য হয়েছেন অথচ তার সত্যিকার নামটি উচ্চারণের ডাবিংয়ে উত্তম কুমার কণ্ঠ দিতে পারেননি। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, রমা রমা ডাকটি উত্তম কুমারের নিজের কণ্ঠের নয়। এই ডাকে কণ্ঠ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলা গানের আর এক কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

Suchitra+sen+mbd-ok-3

যে নামের সঙ্গে আমরা পরিচিত নই, সেই রমা দাসগুপ্তই পরবর্তী সময়ে সুচিত্রা সেন হয়ে বাঙালির হৃদপিণ্ডের লাব-ডাব শব্দটিকে অসম্ভব বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল সুচিত্রা সেন বাংলাদেশের পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা করুণাময় দাসগুপ্ত স্থানীয় একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মা ইন্দিরা দাসগুপ্ত ছিলেন তার সাংস্কৃতিক চেতনার উৎস। তিনি বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান এবং তৃতীয় কন্যা। ১৯৪৭ সালে দিবানাথ সেনের সঙ্গে সাতপাঁকে বাধা পড়েন তিনি। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও পরবর্তীতে অভিনয়ে সুখ্যাতি পান। মুনমুন সেনের দুই কন্যা রিয়া এবং রাইমা সেনও সুনামের সঙ্গে অভিনয় করছেন।

Suchitra+sen+uttam+kumar+mbd-ok-5

সুচিত্রা সেন ১৯৫২ সালে ‘শেষ কথা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যামে রুপালি পর্দায় অভিসিক্ত হন। দুর্ভাগ্যক্রমে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়নি। এ বছরই তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয় করেন। ছবিটি ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা পায়। শুরু হয় উত্তম সুচিত্রার হিরন্ময় অধ্যায়।

Suchitra+sen+uttam+kumar+mbd-ok-4উত্তম-সুচিত্রা প্রায় বিশ বছর বাঙালি হৃদয়ের আরাধ্য জুটি হিসেবে ভালোবাসায় সিক্ত হন। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তিতুল্য অভিনেত্রীর স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জুটি হিসেবে উত্তম-সুচিত্রা’র উপমা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। ধ্রুপদ ধারার অভিনয়েও সুচিত্রার সুখ্যাতি সুবিস্তৃত। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম অভিনেত্রী- যিনি সর্বাগ্রে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সাত পাঁকে বাধা’ ছবির জন্য ১৯৬৩ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন।

সুচিত্রা সেনের অভিনীত চলচ্চিত্র ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ (১৯৫৩), ‘ওরা থাকে ওধারে’ (১৯৫৪), ‘অগ্নিপরীক্ষা’ (১৯৫৪), ‘শাপমোচন’ (১৯৫৫), ‘সবার ওপরে’ (১৯৫৫), ‘সাগরিকা’ (১৯৫৬), ‘পথে হলো দেরী’ (১৯৫৭), ‘হারানো সুর’ (১৯৫৭), ‘দ্বীপ জ্বেলে যাই’ (১৯৫৯), ‘শপ্তপদী’ (১৯৬১), ‘বিপাশা’ (১৯৬২), ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘সাত পাঁকে বাধা’ (১৯৬৩), ‘হাসপাতাল’, ‘শিল্পী’ (১৯৬৫), ‘ঈন্দ্রণী’ (১৯৫৮), ‘রাজলক্ষèী ও শ্রীকান্ত’ (১৯৬৩), ‘সূর্যতোরণ’ (১৯৫৮), ‘উত্তর ফাল্গুনি’ (১৯৬৩) [উত্তর ফাল্গুনি চলচ্চিত্রটি পরবর্তীকালে হিন্দিতে ‘মমতা’ (১৯৬৬) নামে পুনচিত্রায়ণ করা হয়।] ‘গৃহদাহ’ (১৯৬৭), ‘ফরিয়াদ’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ (১৯৭৪), ‘দত্তা’ (১৯৭৬), ‘প্রণয়পাশা’, ‘প্রিয় বান্ধবী’, ‘আলো আমার আলো’, হিন্দি ছায়াছবি- ‘দেবদাস’ (১৯৫৫), ‘মুসাফির’ (১৯৫৭), ‘চম্পাকলি’ (১৯৫৭), ‘বোম্বেকা বাবু’ (১৯৬০)সহ প্রতিটি চলচ্চিত্র অসম্ভব জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

বিশেষভাবে উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনীত ‘সপ্তপদী’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘হারানো সুর’, ‘চাওয়া-পাওয়া’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘সাগরিকা’, ‘শিল্পী’র জনপ্রিয়তা আজও কোন বাংলা চলচ্চিত্র অতিক্রম করতে পারেনি। সুচিত্রা সেন বসন্ত চৌধুরী, সৌমিত্র চট্টপাধ্যায়ের সঙ্গেও অভিনয় করে সফলতা পেয়েছেন। বসন্ত চৌধুরীর সঙ্গে অভিনীত চলচ্চিত্র ‘দ্বীপ জ্বেলে যাই’ (১৯৫৯) দেখে চোখের জল ফেলেননি এমন দর্শক হয়তো খুঁজেপাওয়া যাবে না। বিমল রায় পরিচালিত সুচিত্রা সেন অভিনীত প্রথম হিন্দী চলচ্চিত্র ‘দেবদাস’ (১৯৫৫) সে সময় অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়। গুলজার পরিচালিত ‘আন্ধি’ (১৯৭৪) ছবিতে তিনি রাজনৈতিক নেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন। ইন্দিরা গান্ধির রাজনৈতিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে এই চরিত্রে অভিনয় করলেও ইন্দিরা গান্ধির প্রধান মন্ত্রিত্বকালীন জরুরি অবস্থার কারণে ছবিটি পর্দায় নিষিদ্ধ করা হয়।

uttam-sucitra-sobar-upore

ষাট ও সত্তর-এর দশক পর্যন্ত তার অভিনীত প্রায় প্রতিটি চলচ্চিত্র জনপ্রিয়তার শীর্ষধারা অব্যাহত রাখে। তিনি ১৯৭৮ সালে অভিনয় থেকে অবসর নেন। শেষ হয় এই মহানায়িকার ২৫ বছরের বর্ণিল অভিনয় জীবন। অবসরের পর তিনি সাধারণ মানুষের অগোচরে চলে যান এবং রামকৃষ্ণ মিশনে কাজ করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। রুপালি পর্দা খ্যাতি হারালেও উত্তম কুমারের সংগে তার অভিনীত ছবিগুলো আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষধারায় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রদর্শিত হয় এবং মানুষকে টিভির সামনে পিনপতন নীরবতার মধ্যে মোহাবিষ্ট করে রাখে। তিনি ২০০৫ সালে অস্কার পুরস্কার মর্যাদায় লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। কিন্তু অন্তরাল থেকে বের হয়ে মানুষের সামনে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সরাসরি পুরস্কার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে পুরস্কার থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 2026 9090003

বন্ধ হয়ে গেল দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.